
কাজি আরিফ হাসান:
আর মাত্র কিছুদিন পরেই মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো মানুষ। ফলে বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, নৌপথ ও আকাশপথে ইতোমধ্যেই ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে।
জানা গেছে, গত ৩ মার্চ থেকে ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয় এবং ১৩ মার্চ থেকে ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ায় যাত্রীরা আগেভাগেই টিকিট সংগ্রহ করছেন। ফলে এবার টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর তেমন দৃশ্য দেখা যায়নি।
ঈদযাত্রাকে নিরাপদ করতে প্রশাসনও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার এক বক্তব্যে জানিয়েছেন, ঈদযাত্রায় সড়কে ফিটনেসবিহীন কোনো যানবাহন চলতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও সতর্ক করে বলেছেন, ঈদযাত্রায় সড়কে কোনো ধরনের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, দিন যতই ঈদের দিকে এগোচ্ছে ততই বাড়ছে যাত্রীদের চাপ। অনেক যাত্রী আগেভাগেই নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন।
ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মো. শাহাদত হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ততই স্টেশনে যাত্রীদের চাপ বাড়ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনে জিআরপি, আরএনবি পুলিশ এবং সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
তিনি আরও জানান, স্টেশনের প্লাটফর্ম ও আশপাশের এলাকায় পকেটমার, চোর, মাদকাসক্ত ও ‘মলম পার্টি’র সদস্যদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। রেলওয়ের কর্মকর্তারাও স্টেশনের ভেতর ও বাইরে তদারকি করছেন।
যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেনের সময়সূচি ও গন্তব্য সংক্রান্ত আপডেট তথ্য নিয়মিত মাইকে প্রচার করা হচ্ছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের সতর্ক করে বলেছে, অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া কোনো খাবার গ্রহণ না করতে এবং নিজেদের মালামালের প্রতি সতর্ক থাকতে।
স্টেশন মাস্টার আরও বলেন, ঢাকা বিমানবন্দর রেলস্টেশন দেশের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন। প্রতিদিন এখানে লাখো মানুষের যাতায়াত হয়। দুর্ঘটনা এড়াতে প্লাটফর্ম ও আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি করা হচ্ছে।
এদিকে কমলাপুরসহ রাজধানীর অন্যান্য রেলস্টেশনগুলোতেও যাত্রীদের ভিড় ক্রমেই বাড়ছে। অনেক জায়গায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। একই চিত্র দেখা যাচ্ছে বাস টার্মিনাল ও নৌপথেও। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি নৌপথে কোস্ট গার্ডের টহলও জোরদার করা হয়েছে।