
তারিখ: বুধবার ১৮ মার্চ ২০২৬ ইং
পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সড়কপথে বাড়তি ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য এবার আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ৩ থেকে ৫ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ভাড়ার দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ) এ পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির দাবি, মাঠপর্যায়ে তদারকির অভাব, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি এবং দায়িত্বশীলদের উদাসীনতার কারণে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; বরং দিন দিন আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে প্রকাশ্যেই চলছে এই অনিয়ম। নির্ধারিত টিকিট কাউন্টার এড়িয়ে বাসের সামনে সরাসরি টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ভাড়া নিয়ন্ত্রণের কোনো সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল চক্র, যারা যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। ফলে নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
শুধু দূরপাল্লার পরিবহনেই নয়, স্থানীয় পরিবহনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। শহরের ভেতরে এবং আশপাশের স্বল্প দূরত্বের রুটগুলোতেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয়বহুল ও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
নিরাপদ সড়ক আন্দোলন (নিসআ)-এর নেতৃবৃন্দ মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে ঈদের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা অবিলম্বে কঠোর নজরদারি জোরদার, অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত ভাড়া বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি সংগঠনটির আহ্বান—যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলমান ভাড়া নৈরাজ্যের অবসান নিশ্চিত করতে হবে।