
স্টাফ রিপোর্টার : এস এম সাইদ হোসেন রিপন
তারিখ: ১১ মার্চ ২০২৬ (সোমবার)
রাজধানীর উত্তরা সায়দাবাদ দক্ষিণ খান এলাকায় একটি ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মালিকের বিরুদ্ধে প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে জনমনে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগের সূত্র ও অনুসন্ধান
জানা গেছে, গত ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে সাপ্তাহিক ক্রাইম পেট্রোল বিডি পত্রিকার বার্তা বিভাগে লিখিতভাবে অভিযোগ জমা পড়ে যে, উত্তরা আব্দুল্লাহপুরের ফায়দাবাদ এলাকায় ওহাব আলী মার্কেট সংলগ্ন ‘তেহারি ঘর লিমিটেড’-এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্যাটারিংয়ের খাবার রান্না করা হচ্ছে।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে পত্রিকাটির পক্ষ থেকে প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য সংবাদদাতা হাসান ও সুমন-কে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়।
হামলার ঘটনা
সংবাদদাতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্যাটারিং প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং খাবার প্রস্তুতের বাস্তব চিত্র ধারণ করতে থাকেন। এ সময় পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী এক ব্যক্তি হঠাৎ সংবাদদাতা সুমনের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয় এবং এতে সুমন গুরুতর আহত হন।
ঘটনায় তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল-এ নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ পাঠানো হয়।
আইনি পদক্ষেপ
নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আহত সাংবাদিক সুমন ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে দক্ষিণখান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডি নম্বর: ৯৯৯
থানা: দক্ষিণখান, ঢাকা
হুমকি ও প্রভাব খাটানোর অভিযোগ
ঘটনার পর ‘তেহারি ঘর লিমিটেড’-এর মালিক পরিচয়ে জীবন মাহমুদ তপু নামে এক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমে ফোন করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি নিজেকে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডিআইজি নাহিদুল ইসলাম-এর আত্মীয় দাবি করে বলেন, তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করা হলে “ভালো ফল হবে না।”
এছাড়া তিনি দাবি করেন, রাজধানীতে তার একাধিক আউটলেট রয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।
খাদ্যের মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে ব্যবহৃত মাংসের উৎস নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আসা অনির্ভরযোগ্য মাংস ব্যবহার করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
জনমনে প্রশ্ন
এ ঘটনায় সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেছে—
প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করে কি অনিয়ম আড়াল করা হচ্ছে?
নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো প্রভাবশালী চক্র জড়িত?
দাবি ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও জোরালোভাবে সামনে এসেছে।
উপসংহার:
সাংবাদিকের ওপর হামলা ও প্রভাব খাটানোর এই অভিযোগ শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।