
স্টাফ রিপোর্টার | বিশেষ অনুসন্ধান
রাজধানীর কাওলা-নামারপাড়া এলাকায় এক সময়ের আওয়ামী লীগ–ঘনিষ্ঠ কর্মী আরিফ হোসেনকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগের পাহাড়। স্থানীয়দের দাবি, ৫ আগস্টের আগে তিনি সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–এর রাজনীতিতে জড়িত ছিলেন। দলীয় কর্মসূচিতে সামনের সারিতে উপস্থিতি ও শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরে বেড়াত। কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি তিনি নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র ত্যাগী কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেছেন—এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।
‘দলবদল’ নাকি কৌশলগত পুনর্বিন্যাস?
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পালাবদলের সুযোগে প্রভাব ধরে রাখতে আরিফ নতুন পরিচয়ে আবির্ভূত হয়েছেন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে আওয়ামী লীগের সাবেক নেতাদের সঙ্গে পুরোনো ছবি থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার ছবি। একজন বাসিন্দা বলেন, “দল পাল্টেছে, কিন্তু চরিত্র পাল্টায়নি।”
হত্যা মামলা ও প্রকাশ্যে কুপিয়ে মারার অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রের দাবি, আরিফের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলায় আসামি থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং অতীতে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনার সঙ্গে তার নাম জড়িয়েছে। তবে এ অভিযোগের নথিপত্র স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক তথ্য চাওয়া হয়েছে।
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের ছায়া
অভিযোগ রয়েছে, কাওলা অটোস্ট্যান্ড ও নামারপাড়া এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও কিশোর গ্যাং তৎপরতায় আরিফের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সন্ধ্যার পর অলিগলিতে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয়। রিকশাচালক, পথচারী—কেউই রেহাই পান না; জোর করে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, প্রতিবাদ করলে হামলা ও শারীরিক লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। “ভয়েই কেউ মুখ খোলে না”—বলছেন তারা।
প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
একাধিকবার দক্ষিণ খান থানা–য় অভিযোগ করা হলেও দৃশ্যমান পরিবর্তন নেই—এমন দাবি এলাকাবাসীর। যদিও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন অতীতে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান ঘোষণা করেছিলেন। স্থানীয়দের প্রশ্ন—কাওলা এলাকায় কেন সেই কঠোরতা কার্যকর হচ্ছে না?
জননিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
গণআন্দোলনের পরও নিজেদের নিরাপদ মনে করছেন না বলে জানান অনেক বাসিন্দা। তাদের ভাষ্য, “প্রশাসনের চোখের সামনে সব চলছে, কিন্তু কার্যকর ব্যবস্থা নেই।”
এলাকাবাসীর দাবি—দলীয় পরিচয়ের আড়ালে অপরাধে জড়িত থাকলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে। কাওলা-নামারপাড়া এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে অবিলম্বে সমন্বিত অভিযান চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
(এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করা হবে।)