
কাজি আরিফ হাসানঃ
রাজধানীর উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরে বসবাসরত দেশের বরেণ্য অভিনেত্রী ডলি জহুর মনে করেন, দেশের জাতীয় আর্কাইভ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শুধু সরকারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, দর্শকদেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। দৈনিক ঢাকার কন্ঠ পত্রিকার বিশেষ প্সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি বেঁচে থাকতে চাই সারা দেশের মানুষের মাঝে।” দীর্ঘ অভিনয় জীবনে শত শত নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের ভালোবাসা অর্জন করেছেন। তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৬৬টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে মায়ের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি ‘ডলি আপা’, ‘ডলি ভাবী’ কিংবা অনেকের কাছে ‘মা’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছেন।
অভিনয়ের শুরুটা ছিল মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ অধ্যয়নকালে থিয়েটারে অংশ নিয়ে তিনি অভিনয় জীবনের দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলেন। তার উল্লেখযোগ্য মঞ্চনাটকের মধ্যে রয়েছে ‘মানুষ’, ‘ময়ূর সিংহাসন’ ও ‘ইবলিশ’। টেলিভিশন নাটকের ক্ষেত্রেও তার অবদান উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) যুগ থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত তার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে দেশের অন্যতম অভিজ্ঞ অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
চলচ্চিত্র জগতে তিনি সমানভাবে সফল। ইতোমধ্যে প্রায় ১৬৬টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দেশের অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে শঙ্খনীল কারাগার, ঘানি, আগুনের পরশমণি, আনন্দ অশ্রু, দারুচিনির দ্বীপ, রং নাম্বার ও বাবা কেন চাকর।চলচ্চিত্রে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দুইবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন—‘শঙ্খনীল কারাগার’ (১৯৯২) ও ‘ঘানি’ (২০০৬) ছবির জন্য।
বর্তমান গণমাধ্যম নিয়েও কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেন এই অভিনেত্রী। তার অভিযোগ, অতীতে একটি সাক্ষাৎকার বিকৃতভাবে উপস্থাপন করায় তিনি বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। এছাড়া অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসাকালে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলেও জানান তিনি।চলচ্চিত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডলি জহুর বলেন, “এখন ভালো গল্পের অভাব রয়েছে। আগের মতো শক্তিশালী লেখক নেই, ফলে শিল্পীরা কাজের সুযোগও পাচ্ছেন না।”
১৯৫৩ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা মফিজুল ইসলাম ছিলেন সরকারি চাকরিজীবী এবং মা মালেকা বানু। অল্প বয়স থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ধীরে ধীরে নিজেকে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। বর্তমানে তিনি কয়েকটি নতুন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও আগের মতো মানসম্মত গল্প পাচ্ছেন না বলে জানান। জীবনে অর্জিত বহু পুরস্কার জাতীয় আর্কাইভে জমা রেখেছেন স্মৃতি হিসেবে ।
জীবনে অর্জিত বহু পুরস্কার তিনি জাতীয় আর্কাইভে সংরক্ষণে রেখেছেন।
জাতীয় আর্কাইভে সংরক্ষণ করেছেন নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের উদ্দেশ্যে এই প্রবীণ অভিনেত্রী বলেন, “অভিনয় একটি শিল্প। এই শিল্পের মান ধরে রাখতে হলে আরও নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”
দৈনিক ঢাকার কন্ঠ পত্রিকার বিশেষ সাক্ষাৎকারে সময় একথা বলেন আমি আমার প্রিয় দর্শকদের মাঝে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে চাই এটাই চাওয়া বর্তমান তার ভাবনায় সে অভিনয়ের পাশাপাশি নামাজ রোজা এবাদত মাধ্যমিক সময় পার করা এবং আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা,এ বলেই তার একান্ত মনের চিন্তা ভাবনা প্রকাশ করেন এবং দেশ সকল মানুষ সুস্থ ও সুখে থাকুক এটাই তার কাম্য ।
সবশেষে তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের চলচ্চিত্র শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে সরকার ও দর্শক—উভয়ের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।