
কাজি আরিফ হাসানঃ
গত ৩১ ডিসেম্বর (বুধবার) দক্ষিণ প্লাজায় লাখো লাখো মানুষের উপস্থিততে বেগম জিয়ার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন। স্বামী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শাসিত হলেন। খালেদা জিয়ার জানায় পাকিস্তানের উপমন্ত্রী, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, কানাডা,যুক্তরাষ্ট্র,যুকরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। বেগম জিয়ার জানাজা দুপুর ২ টার পরিবর্তে ৩:৫ মিঃ অনুষ্ঠিত হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন ।
জানাজার পূর্বে তারেক রহমান তার বক্তব্যে জানান মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া যদি কারোর কাছে ঋৃন থাকেন তাহলে তারেক রহমানকে জানালে তিনি ব্যবস্থা করবেন এবং বেগম জিয়া বেচে থাকাকালীন কারোর মনে কোনো আঘাত দিলে তাঁর হয়ে ক্ষামা প্রার্থী বেগম জিয়ার বড় সন্তান তারেক রহমান। এদিকে জানাজার পূর্বেই সংসদ ভবনের মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে যায়,লাখো লাখো মানুষের ঢল বেগম জিয়ার জানাজায়।
মগবাজার,আসাদগেট,ফার্মগেট,বিজয়স্বরনী এলাকা জুড়েই মানুষের জনসমুদ্র পরিনত হয় খালেদা জিয়ার জানাজায়। এদিকে গত ২৯ ডিসেম্বর(সোমবার) রাত ৯ টায় বেগম জিয়াকে দেখতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান,স্ত্রী জুবায়দা রহমান এবং নাতী জায়মা রহমান এভারকেয়ার হাসপাতালে যান। বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপোষহীন নেত্রী, তিনি দীর্ঘ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩০ ডিসেম্বর(মঙ্গলবার) ভোর ৬ টায় শেষ নিস্বাশ ত্যাগ করেন(ইন্নলিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাহে রাজিউন)।
গত ২৩ নভেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি। তিনি বেঁচে থাকা অবস্থায় বলেছিলেন এই বাংলাদেশের মানুষদের ফেলে আমি বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাবো না। শেখ হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট সরকারে আমলে বহুবার জেল,জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হন এই আপোষহী দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তিনি ১ মাস ৭ দিন যাবৎ এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলেন। বিএনপির চেয়ারপার্সোন বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপোষহীন দেশ নেত্রী।
১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালে ও ২০০৮ সালে দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বেগন খালেদা জিয়ার শাসনামলে নারী শিক্ষা স্বাক্ষরতা অবদান এই বেগম খালেদা জিয়া। জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকাকালীন সময় একমাত্র তিনিই ফান্টলেডি ছিলেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত হয়ে দেশ পরিচালনায় ছিলেন। দেশের গণতন্ত্রের জন্য তার অবদান অনেক।
তাঁর মুত্যুতে দেশবাসীর গভীর শোক প্রকাশ। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের শোক প্রকাশ। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে দলের মহাসচিব থেকে শুরু করে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের শোক প্রকাশ। বেগম জিয়ার মৃত্যুতে জাতি শোকাহত। তাঁর মৃত্যুতে ভারতের নরেন্দ্র মোদি,শাহবাজ শরিফ,কানাডা,চীনের প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্নদেশের বিশ্ব নেতাদের শোক প্রকাশ। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম জিয়ার নামাজের জানাজা ৩১ ডিসেম্বর(বুধবার) জোহরের নামাজের পর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সমাহিত হবেন। বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুদে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা এবং ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষাণা করেছে বিএনপি।