
বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় পরিচয় ও পদবি ব্যবহার করে একশ্রেণির ব্যক্তি প্রকাশ্যে কিংবা আড়ালে চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন, যা নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীতে বসবাসকারী দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের কিছু রাজনৈতিক নেতা বা কর্মী নিজেদের দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। কেউ সরাসরি চাঁদা দাবি করছেন, আবার কেউ ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আর্থিক লেনদেনকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে তা ফেরত না দিয়ে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগে অভিযুক্ত হচ্ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, অনেক ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাবের কারণে তারা প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে সাহস পান না। তাদের ভাষ্য, টাকা ধার নেওয়ার পর দীর্ঘ সময় পার হলেও অর্থ ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো হয়। পাওনা টাকা চাইতে গেলে হুমকি-ধমকি কিংবা অসৌজন্যমূলক আচরণের মুখোমুখি হতে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে রাজধানীর উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় অনুসন্ধানে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগের চিত্র দেখা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পোশাক কারখানাসহ বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রভাব বিস্তার করছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলেন, শিল্প ও ব্যবসা খাতকে নিরাপদ রাখতে চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করা প্রয়োজন। অন্যথায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
এলাকাবাসীর মতে, রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে কেউ যদি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট দল ও প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া। এতে যেমন দলের ভাবমূর্তি রক্ষা পাবে, তেমনি সাধারণ মানুষের আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের দাবি, প্রকাশ্য কিংবা আড়ালে পরিচালিত সব ধরনের চাঁদাবাজি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।