
ঢাকা: দ্রুতই দেশে ফিরবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক ভার্চুয়াল দলীয় সভায় তিনি বলেন, “আমার জন্য জেলখানা, ফাঁসির মঞ্চ প্রস্তুত রাখুন। আমার পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিন, আমাকে নিয়ে যেতে বিমান পাঠান।”
শেখ হাসিনা দাবি করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট নিরাপত্তাজনিত কারণে তাঁকে দেশ ছাড়তে হয়েছিল। সে সময় Bangladesh Air Force–এর একটি বিমান তাঁকে ভারতের দিল্লিতে পৌঁছে দেয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁকে জানিয়েছিলেন যে দেশে অবস্থান করলে তাঁর জীবনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারত।
১৯৮১ সালের ১৭ মে রাজনৈতিক নির্বাসন শেষে দেশে ফেরার স্মৃতি তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, জনগণের শক্তিই তাঁর সবচেয়ে বড় ভরসা। তিনি বলেন, “আমি কখন, কীভাবে দেশে ফিরব, সেই সিদ্ধান্ত একান্তই আমার। বাংলাদেশের জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়েই আমি ফিরব।”
ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ভারত একটি সার্বভৌম ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং তারা নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
নিজের বিরুদ্ধে চলমান বিচার ও রায় প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন যে, তাঁর বিরুদ্ধে পরিচালিত বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি। তিনি একে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন এবং বলেন, “কোনো অবৈধ রায় কিংবা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আমাকে রুখতে পারবে না।”
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান–এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে আমাকে থামানো যাবে না। বাংলাদেশের মানুষের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে আমি প্রস্তুত।”
শেখ হাসিনার এই দেশে ফেরার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে তাঁর সমর্থকরা এ ঘোষণাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, অন্যদিকে সমালোচকরাও বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন।