
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর মিরপুর এলাকায় ভ্রাম্যমাণ হকারদের কার্যক্রমকে শৃঙ্খলার আওতায় আনতে উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। এর অংশ হিসেবে মিরপুর-১০, মিরপুর-১ ও মিরপুর-২ এলাকার মূল সড়কে ব্যবসা পরিচালনাকারী ২ শতাধিক হকারের মাঝে ডিজিটাল পরিচয়পত্র বিতরণ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে ডিএনসিসির নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব পরিচয়পত্র বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন সংস্থাটির প্রশাসক মোঃ শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, হকারদের সঙ্গে পূর্বে আলোচনা করে তাদের মতামতের ভিত্তিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। “হকাররাও অবৈধভাবে ব্যবসা করতে চান না,” উল্লেখ করে তিনি জানান, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেই তালিকা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে হকারদের বিকল্প স্থানে স্থানান্তর করা হবে।
প্রথম ধাপে মোট ২০২ জন হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০২ জনকে মিরপুর-১০ এলাকা থেকে মিরপুর-১৩ ওয়াসা রোডে এবং বাকি ১০০ জনকে গাবতলী কাজা বাজার সংলগ্ন খালি স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ডিএনসিসি সূত্র জানায়, তালিকাভুক্ত হকারের মোট সংখ্যা ৮২৯ জন। পর্যায়ক্রমে সকলকেই পরিচয়পত্র প্রদান করে নির্ধারিত স্থানে স্থানান্তর করা হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক আরও জানান, হকারদের স্থানান্তরের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হবে। নির্ধারিত সময়ের পর পুরোনো স্থানে হকার পাওয়া গেলে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে হকারদের জীবিকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে তারা বৈধভাবে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারেন।
এছাড়া হকার পুনর্বাসনের জন্য প্রাথমিকভাবে রাজধানীর ৬টি মাঠের প্রস্তাব পাওয়া গেলেও, সেগুলো শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত হওয়ায় বিকল্প হিসেবে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে হকারদের জন্য পৃথক ‘হকার্স মার্কেট’ গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে হকারদের নির্ধারিত স্থানের বাইরে ব্যবসা না করা এবং স্থায়ী কোনো অবকাঠামো নির্মাণ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়। স্থানান্তর কার্যক্রম তদারকিতে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদস্যরা যুক্ত থাকবেন।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ডিএমপি’র প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।