
রবিবার ১৪ জুন ২০২৬ ইং
বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো উৎপাদক, বাজার ও ভোক্তার মধ্যে কার্যকর সংযোগ প্রতিষ্ঠা করা। উৎপাদনের পর কৃষকের পণ্য বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়। এই দীর্ঘ যাত্রাপথে অনেক সময় কৃষক যেমন ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন, তেমনি ভোক্তার কাছেও পণ্যের দাম বেড়ে যায় কয়েক গুণ।
এই বাস্তবতায় কৃষক ও বাজারের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে আনতে কাজ করছে ‘কতকিছুর হাট’ নামের একটি কৃষিপণ্য সরবরাহ ও বিপণন প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তারা কৃষক ও সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন সুপার শপ, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্যাটারিং সার্ভিস, আবাসিক প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে সরবরাহ করছে।
প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে তারা তাজা শাকসবজি, ফলমূল, মসলা, সি-ফুড, শুটকি, সরিষার তেল, গুড়সহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্য বাজারজাত করছে। পাশাপাশি পণ্য সংগ্রহের পর দ্রুত বিপণন এবং স্বল্প সময়ে সরবরাহকারীদের পাওনা পরিশোধের বিষয়টিকে তারা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
কৃষিপণ্যের ব্যবসায় সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ অধিকাংশ কৃষিপণ্যই পচনশীল। ফলে দ্রুত বিপণন ও অর্থ পরিশোধ কৃষকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই প্রক্রিয়া কৃষকের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংগ্রহ থেকে সরবরাহ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পণ্যের গুণগত মান বজায় রাখার মাধ্যমে ভোক্তার কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কৃষক, বাজার ও ভোক্তার মধ্যে স্বচ্ছ এবং কার্যকর সংযোগ তৈরি করতে পারলে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হতে পারে। সেই সম্ভাবনার অংশ হিসেবেই নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে ‘কতকিছুর হাট’।
কৃষকের ন্যায্য মূল্য, নিরাপদ খাদ্য এবং সময়োপযোগী সরবরাহ—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে কাজ করার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।