নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ
কাজি আরিফ হাসানঃ
পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। নতুন বছরকে বরণ করতে সারাদেশে উৎসবের আমেজে মেতে উঠেছে মানুষ। পুরনো বছরের দুঃখ, কষ্ট ও গ্লানি ভুলে নতুন আশায় বাংলা ১৪৩৩ সালকে স্বাগত জানিয়েছে বাঙালি জাতি।
বর্ষবরণকে ঘিরে রাজধানী থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জ পর্যন্ত চলছে নানা আয়োজন। পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতেও চাকমা, মারমা সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে উদযাপিত হচ্ছে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী ‘বৈসাবি’ উৎসব, আর মারমা সম্প্রদায়ের ‘সাংগ্রাইন’ উৎসবেও দেখা গেছে বর্ণিল আয়োজন।
এই দিনে নারীরা ঐতিহ্যবাহী সাদা-লাল পাড়ের শাড়ি এবং পুরুষরা পাঞ্জাবি-ধুতি পরে উৎসবে অংশ নেন। রাজধানীর রমনার বটমূলে বরাবরের মতো মানুষের ঢল নামে। সেখানে পরিবেশিত হয় চিরচেনা বর্ষবরণের গান—“এসো হে বৈশাখ, এসো এসো”। পান্তা-ইলিশ, ভর্তা ও নানা বাঙালি খাবারে মুখরিত হয় উৎসব প্রাঙ্গণ।
বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ব্যবসায়ীরা হালখাতা খোলেন, আর দেশের বিভিন্ন স্থানে বের হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা। রাস্তাজুড়ে দেখা যায় মুখোশ, পেঁচা, ঘুড়ি, নৌকা ও নানা প্রতীকী সাজসজ্জা। ঢাক-ঢোলের তালে তালে শুরু হয় বৈশাখী মেলা।
পহেলা বৈশাখ শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বসবাসরত বাঙালিরাও এই দিনটি উৎসবের মধ্য দিয়ে পালন করেন। এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালির সর্বজনীন লোকউৎসবে পরিণত হয়েছে।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, পুরান ঢাকার মুসলিম মাহিফরাস সম্প্রদায়ের হাত ধরেই একসময় নববর্ষ উদযাপনের সূচনা হয়। সময়ের সাথে তা আজ সার্বজনীন জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে।
দিনভর আনন্দ-উল্লাসের পর অনেক সময় সন্ধ্যায় কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়, যা প্রকৃতির নিজস্ব রূপে নতুন বছরের আগমনী বার্তাকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
বাংলা নববর্ষ তাই শুধু একটি দিন নয়—এটি বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও নতুন করে বেঁচে থাকার প্রেরণার প্রতীক।