
ঢাকা, তারিখ ৭ এপ্রিল ২০২৬ ইং
বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি মহানায়িকা সুচিত্রা সেন-এর ৯৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তার জন্মস্থান পাবনা-য় দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে পাবনা শহরের হেমসাগর লেনে অবস্থিত তার পৈতৃক বাড়িতে ভাস্কর্যে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কেক কাটা এবং আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে জন্মবার্ষিকী পালন করে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. রামদুলাল ভৌমিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক নরেশ মধুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপদেষ্টা কৃষিবিদ জাফর সাদেক, আফরোজ আসাদ, উংপল মির্জাসহ আরও অনেকে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক অরূপ কুমার কুণ্ডু, পরিষদের কার্যকরী সদস্য ফজলুল হক সুমন, সাংস্কৃতিক কর্মী হাসান মাহমুদ, এটিএন টিভির জেলা প্রতিনিধি মাসুদ রানা, সাবেরা সুলতানা প্রমুখ।
জীবনী ও অবদান
১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনায় জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা সেন। তার প্রকৃত নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত। বাবা করুণাময় দাশগুপ্ত এবং মা ইন্দিরা দেবীর ঘরে জন্ম নেওয়া এই অভিনেত্রী ছিলেন পরিবারের পঞ্চম সন্তান।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের আগে পারিবারিক কারণে তিনি কলকাতায় চলে যান। ১৯৫২ সালে চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু হলেও ১৯৫৩ সালে উত্তম কুমার-এর সঙ্গে ‘সাড়ে চুয়াত্তর’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
বাংলা ও হিন্দি—উভয় ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি উপমহাদেশজুড়ে খ্যাতি পান। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে সাত পাকে বাঁধা, দেবদাস, সপ্তপদী, হারানো সুর প্রভৃতি।
১৯৬৩ সালে সাত পাকে বাঁধা ছবির জন্য মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন তিনি—যা বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য এক ঐতিহাসিক অর্জন।
১৯৭৮ সালে দীর্ঘ ২৫ বছরের অভিনয়জীবনের ইতি টেনে তিনি নিজেকে লোকচক্ষুর আড়ালে সরিয়ে নেন। ২০০৫ সালে ভারতের সর্বোচ্চ চলচ্চিত্র সম্মান দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কারের জন্য মনোনীত হলেও ব্যক্তিগত কারণে তা গ্রহণ করেননি।
২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই মহানায়িকা।
অমলিন স্মৃতি
দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও বাঙালির হৃদয়ে আজও সমানভাবে উজ্জ্বল সুচিত্রা সেন। তার অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং রহস্যময় জীবনযাপন তাকে করে তুলেছে বাংলা চলচ্চিত্রের এক চিরন্তন কিংবদন্তি।