
ঢাকা, বৃহস্পতিবার তারিখ ২৬ মার্চ ২০২৬ ইং
দেশের উচ্চশিক্ষা খাত থেকে প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ স্তর—সবখানেই নতুন নিয়োগকে ঘিরে ‘দলীয়করণ’ বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর এক ঘোষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের আটটি স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের অপসারণ করে নতুন নিয়োগ দেওয়ার ঘটনায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের অধিকাংশই ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।
এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়েই সীমাবদ্ধ নয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর গভর্নর পদ, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসন এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে একাধিক শীর্ষ পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যান ও কমিশনারদেরও হঠাৎ অপসারণ করে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতায় আসার আগে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে কড়া সমালোচনা করে আসছিল। কিন্তু এখন একই ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করায় প্রশ্ন উঠছে—তাহলে পূর্বের অবস্থান কি ছিল রাজনৈতিক কৌশল মাত্র?
এ প্রসঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “যেহেতু দলীয় সরকার, দলীয় লোক তো থাকবেই।” তার এই বক্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর-কে গভর্নর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও দেশ-বিদেশে সমালোচিত হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তির নিয়োগকে ঘিরে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে দীর্ঘমেয়াদে প্রশাসনিক দক্ষতা ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা কমে যেতে পারে।
ইংরেজি প্রবাদ—“Morning shows the day”—উল্লেখ করে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে এটি আরও একটি জবাবদিহিতাহীন শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত হতে পারে।