
মনির হোসেন জীবন :
রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকার শিশু-কিশোরদের খেলার মাঠে ১৫ দিনব্যাপী ‘বৈশাখী মেলা’ আয়োজনের সিদ্ধান্তে এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মাঠের চারপাশে মেলা আয়োজনের সাজসাজ রব শুরু হওয়ার ফলে স্থানীয় স্কুল- কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী ও শিশু কিশোরদের খেলাধুলা ও দৌঁড়ঝাঁপ একবারে বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। চলতি বছরের পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই মেলায় কল্যাণ সমিতির নাম ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র পুরো মাঠ দখলের পরিকল্পনা নিয়েছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। খবর নিকুঞ্জে বসবাসরত ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও সংশ্লিষ্ট একাধিক বিশ্বস্ত তথ্যসূত্রের।
তথ্য অনুসন্ধান ও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে রাজধানীর নিকুঞ্জ-২, বর্তমানে কল্যাণ সমিতির কোনো নির্বাচিত বা বৈধ কোনো কমিটি নেই বললেই চলে । সমিতির কার্যক্রম সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, অধিদপ্তরের প্রশাসক তার আইনি এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে এই মাঠের অনুমোদন দিয়েছেন, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয় এলাকাবাসীর । আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে এই মেলা আয়োজন সম্পূর্ণ অবৈধ বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। খেলার মাঠটি কেবল একটি ফাঁকা জায়গা নয়, বরং এটি স্থানীয় শিশু- কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের প্রধান কেন্দ্র। বর্তমানে মাঠজুড়ে মেলার স্টল ও বাঁশ-কাঠের স্তূপ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তরুণ শিক্ষার্থীরাও অভিভাবকরা। তাদের মতে, মাঠটি এভাবে বন্ধ করে দেওয়া শিশুদের শৈশব ও স্বাস্থ্যের ওপর এক ধরণের আঘাত। পরিতাপের বিষয় হলো, মাঠের ঠিক পাশেই অবস্থিত নিকুঞ্জ কেন্দ্রীয় মসজিদ ও মাদ্রাসা। বৈশাখী মেলার নামে উচ্চশব্দে গান-বাজনা ও বাণিজ্যিক কোলাহল এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভাবগাম্ভীর্য ও শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারে। এছাড়া ১৫ দিনব্যাপী বহিরাগতদের অবাধ আনাগোনা ও স্টল নির্মাণের ফলে আবাসিক এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত যানজট এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সাংবাদিক জাহিদ ইকবালসহ অনেকেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা একই ধরনের অভিযোগ করেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, বৈশাখী মেলার কথা বলা হলেও এখানে প্রায়ই নিম্নমানের পণ্য ও বিনোদনের আধিক্য থাকে, যা বাঙালি সংস্কৃতির প্রকৃত চেতনার সঙ্গে মানানসই নয়। বর্তমান সরকার যেখানে দেশজুড়ে নতুন নতুন খেলার মাঠ তৈরির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, সেখানে একটি প্রভাবশালী মহলের স্বার্থে শিশুদের একমাত্র মাঠটিকে ব্যবসায়িক কেন্দ্রে রূপান্তরের চেষ্টা জনস্বার্থ বিরোধী। কোনো ধরনের গণশুনানি বা স্থানীয়দের মতামত না নিয়ে এমন একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অনৈতিক বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। নিকুঞ্জ-২ একটি পরিকল্পিত ও শান্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এলাকাবাসীর দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট—অবিলম্বে এই মেলার অনুমোদন বাতিল করে মাঠটি দখলমুক্ত করতে হবে। শৈশবের অধিকার রক্ষা এবং এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এখনই যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একটি খেলার মাঠ হারিয়ে গেলে শুধু একটি স্থান নয়, বরং হারিয়ে যাবে পুরো একটি প্রজন্মের সুস্থ শৈশব। তাই এখনই সময় শিশুদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার হওয়ার এবং সম্মিলিতভাবে মাঠটিকে রক্ষা করার।
সংশ্লিষ্ট ও সচেতন মহলের ব্যক্তিরা বলছেন- দেশে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন আছে কিন্তু নেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। এই আইনের মধ্যে কারাদণ্ড ও অর্থ দণ্ড কিংবা উভয় দন্ডের বিধানও আছে। ফলে শিশুদের খেলার স্থানটি বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে হস্তান্তর করা স্পষ্টত আইনের লঙ্ঘন, যা এই পরিকল্পিত আবাসিক এলাকার জনমনে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এব্যাপারে নিকুঞ্জ-২ আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠে বৈশাখী মেলা বন্ধের জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী, সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, ঢাকা জেলা প্রশাসক, রাজউকের চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিযুক্ত প্রশাসক ইনসান আলীসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নিকুঞ্জ এলাকার সর্বস্তরের জনগণ।