
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলার অবনতিতে উদ্বেগ বাড়ছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, হত্যা, প্রকাশ্যে মাদক সেবন ও বেচাকেনা, লুটপাট, ধর্ষণসহ নানা অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কিশোর অপরাধের ভয়াবহ বিস্তার, যা সাধারণ মানুষের মনে গভীর শঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
দীর্ঘ ১৭ বছরের শাসনামলের পর ৫ আগস্টের অস্থিরতা পেরিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছর অতিক্রম করে দেশ। পরবর্তীতে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হলেও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি বলে অভিযোগ উঠছে। বরং অনেকের মতে, অপরাধপ্রবণতা আগের তুলনায় আরও বেড়েছে।
বিশেষ করে কিশোর ও তরুণদের মধ্যে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তাদের বেপরোয়া চলাফেরা, মাদকাসক্তি, অনলাইন জুয়া এবং সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মনোযোগী হওয়ার পরিবর্তে অনেকেই সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিবাদ করতে গেলে সাধারণ মানুষকে হুমকি ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ সংঘটিত হলেও অনেক ক্ষেত্রে প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। অভিযোগ রয়েছে, সাধারণ মানুষ প্রশাসনকে অবহিত করলেও যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। এ নিয়ে জনমনে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এছাড়া তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মব’ তৈরি করে সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতাও বাড়ছে, যা সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে “মবের রাজত্ব” বলে আখ্যায়িত করছেন।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। তারা মনে করেন—সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে এবং কিশোর-তরুণদের শিক্ষার পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দুর্নীতি ও অপরাধমুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রশাসনের কঠোর ভূমিকা ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয় ঘটলে তবেই গড়ে উঠতে পারে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল রাষ্ট্র।