
ফরিদপুর প্রতিনিধি:
বিদ্যুৎ গ্রাহকদের আধুনিক সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ডিজিটাল প্রিপেইড মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হলেও ফরিদপুরে তা এখন ভোগান্তির প্রতীকে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নতুন এ মিটার স্থাপনকে ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে, আর সেই ক্ষোভ থেকেই আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ। জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের প্রায় ৮২ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহকের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে গত ১৬ মার্চ থেকে। প্রাথমিকভাবে ৩০ মে এর মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনো অনেক এলাকায় মিটার স্থাপন অসম্পূর্ণ রয়েছে।
এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, যাদের সঙ্গে সমন্বয় করছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে শুরু থেকেই পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণার অভাবে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গ্রাহকদের অভিযোগ, নতুন মিটার সম্পর্কে জানতে চাইলে বা মিটার স্থাপনে আপত্তি জানালে অনেক ক্ষেত্রে অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে ওজোপাডিকো-১ সার্কেলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর আলম সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির বাসায় এখনো প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হয়নি। অন্যদিকে, পুরনো মিটার অপসারণ ও নতুন মিটার স্থাপনের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শহরের নিউ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, প্রিপেইড মিটার বসানোর পর বিদ্যুৎ বিল প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। আগে যেখানে মাসিক বিল ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে থাকত, এখন তা বেড়ে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া মিটার রিচার্জ করতেও নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুর আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এদিকে, ওজোপাডিকো-১ সার্কেলের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মতিয়ার রহমান বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৮২ হাজার গ্রাহকের মধ্যে ৩২ হাজারকে প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হচ্ছে। শুরুতে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হতে পারে। তবে গ্রাহকদের যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।” তিনি আরও বলেন, কোনো কর্মকর্তা গ্রাহকের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে পারেন না। যদি এ ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ নানা দাবিতে আগামী ২ জুন ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ফরিদপুর নাগরিক সমাজ। আন্দোলনের মাধ্যমে তারা গ্রাহক হয়রানি বন্ধ এবং অনিয়মের তদন্ত দাবি করেছেন। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে এই আন্দোলন আরও বৃহৎ আকার ধারণ করতে পারে।