
আমরা যখন স্কুলে গেছি তখন কোনো রাজনীতি ছিল না এবং এটাই স্বাভাবিক ছিল। আমরা শুধু লেখাপড়া, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা এগুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের স্কুলে তখন কোনো লাইব্রেরি ছিল না। বান্ধবীদের কাছ থেকে কবিতা গল্প উপন্যাসের বই ধার নিয়ে এবং বই ধার দিয়ে সেগুলো পড়াশোনা করে সময় কাটাতাম। আমার নিজের একটা ছোট্ট লাইব্রেরি ছিল। সেখানে একটা বড় চার তাক যুক্ত রেক আর একটা আলমারি ছিল বই রাখার জন্য।
গল্পের বই পড়ার খুব নেশা ছিল আমার। কিন্তু গল্পের বই পড়া বা নাটক কবিতার বই পড়া আমার মা পছন্দ করতেন না। তিনি শুধু স্কুলের বই পড়তে বলতেন। কিন্তু বাবা আমাকে বইগুলো কিনে দিতেন। উপরে পড়া বই নিচে গল্পের বই রেখে চুপি চুপি পড়তাম। আব্বা জানতেন আমরা গল্পের বই পড়ছি। আম্মা ঘরে প্রবেশের আভাস পেলেই গলায় কাপড় দিয়ে শব্দ করতেন। সাথে সাথে আমি উপরে পড়ার বই রেখে মাথার ঝুঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে জোরে জোরে ক্লাসের বই পড়া শুরু করতাম। বাবা চাইতেন ক্লাসের বই ছাড়াও অনেক বই আছে যাতে বাহ্যিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। মা বলতেন রেজাল্ট ভালো কর। ডেল কার্নেগীর সবগুলো বই আমি পড়ে শেষ করেছিলাম যেগুলো আমার বাবাও পড়তেন। একটা বইয়ের কথা আমার খুব মনে পড়ে।
দুশ্চিন্তাহীন নতুন জীবন। এসএসসিতে খুব ভালো রেজাল্ট করতে পারিনি বিধায় আম্মার সেই যে বকাঝকা। আমি হতাশ হয়ে গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম পড়াশুনাই আর করব না। পরে বাবা এই বইটি যখন দিলেন আমি পড়াশোনার উৎসাহ আবার ফিরে পেলাম।
আমি পড়াশোনার পাশাপাশি মাকে ঘরের কাজে সাহায্য করেছি, ছোট ভাই-বোন মানুষ করেছি। মা চাকরি করতেন বিধায় কাজের মেয়ে না থাকলে আমাকে স্কুল কামাই দিতে হতো। পাঁচ ভাই-বোনের যন্ত্রণায় কাজের মেয়ে প্রায়ই পালিয়ে যেত। মা চাকরির কাজে বাইরে থাকতেন। অনেক কাজের মেয়ে বাড়ির অনেক কিছু নিয়ে পালিয়ে যেত। মাঝে মাঝে পুর কামাই দেওয়াতে আমি খুব ভালো রেজাল্ট করতে পারি নাই। হঠাৎ করে অনেক দিন পরে খুলে গেলে টিচার বলতেন, 'কেন স্কুল ফাঁকি দিয়েছো? হাত পাতো', তারপর হাতের উপর শিক্ষকদের শপাং শপাং বেতের বাড়ি পড়তো। কোনো দিন আমার বলার সাহস ছিল না যে, কেন আমি স্কুলে আসতে পারিনি। কোনো যৌক্তিকতা দেখানোর কোন সাহস ছিল না আমাদের। কিন্তু কখনো ফেল করিনি কোনো বিষয়ে।
আমার মতে, হাই স্কুল পর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ততা অনেক ক্ষেত্রে ঝুঁকিপূর্ণ ও ক্ষতিকর হতে পারে। কারণ বর্তমানে বেশির ভাগই দেখা যায় যে- দলীয় আর রাজনীতির কারণে বিভেদ সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘাতপূর্ণ বা ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির সাথে ছাত্র-ছাত্রীরা জড়িত হয়ে পড়ে। এতে তাদের জীবনে বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যা তাদের সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠাকে ব্যাহত করে।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যা-য় ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা থেকে বিচ্যুতি ঘটে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া থেকে বঞ্চিত হয় এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়ে। স্কুল বয়সে প্রধান কাজ হওয়া উচিত পড়াশোনা ও বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জন। রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়লে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাসে অনুপস্থিতি বেড়ে যায়। ফলে হঠাৎ করে এসে ক্লাসের পড়ার খেই হারিয়ে ফেলে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়- পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যায় এবং এর ফলে পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয় ও দীর্ঘমেয়াদে ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিশোর বয়সে ছাত্র-ছাত্রীদের রক্ত গরম থাকে। নিজেকে সংযত করার মত অনেকেরই ধৈর্য থাকে না। ফলে সহিংসতা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
দলীয় রাজনীতি অনেক সময় সংঘাতপূর্ণ হয়। এতে করে নিজেদের মধ্যে মারামারি, সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে থাকে, যা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটা পর্যায়ের সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি উইলস লিটিল ফ্লাওয়ার স্কুলে এমন একটি শিক্ষক অবমাননার দুর্ঘটনা ঘটে যা সত্যি নিন্দনীয়। আমার ছেলে উইলস লিটিল ফ্লাওয়ার স্কুলে পড়তো। ওকে অনেক ছাত্ররা বুলি করত। ও বাসায় এসে কমপ্লেন করত। এত বেশি উত্তক্ত করত যে, প্রায় সময় ওর মন খারাপ থাকতো। আমি ওকে ধৈর্য ধারণ করতে বলতাম। বলতাম যেসব বাচ্চা উত্তক্ত করে তাদের থেকে তুই অনেক দূরে থাকবি। ওরা যে গেট দিয়ে ক্লাস রুম থেকে বের হবে তুই তার অপজিট গেট দিয়ে ক্লাস রুম থেকে বের হবি। ওরা যে সিঁড়ি দিয়ে নামবে তুই সেই সিঁড়ি দিয়ে নামবি না। দূরে একটু হেঁটে গিয়ে অন্য সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামবি। উত্তক্ত সহ্য করতে করতে আমার সন্তান অসহ্য হয়ে যায়।
ক্লাস এইট পাশ করার পর সে আর ওই স্কুলেই যেতে চায় না। কারণ টিচারদের কাছে কমপ্লেন করার পরও টিচাররা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে নাই। আমার ছেলেকে গায়ে হাত পর্যন্ত দিয়েছে সেখানকার ছাত্ররা। শুধুমাত্র আমার শিক্ষার কারণে আমার ছেলে প্রতিবাদ না করে স্কুল ছেড়েছে। ওখানকার টিচাররা অনেকগুলো ছাত্রদের আদব কায়দায় রাখতে ব্যর্থ। যার ফলশ্রুতিতে আজ শিক্ষক অবমাননার মত ঘটনা ঘটেছে। আমার ছেলে নিতান্ত ভদ্র, এবং আমার চেয়ে অনেক গুন ধৈর্যশীল। তাই স্কুলের মধ্যে কোনো দিনও মারামারি করেনি। সৃষ্টিকর্তার কাছে আমি সে জন্য কৃতজ্ঞ যে আমাকে এমন একটি সন্তান দিয়েছেন যে কারো সাথে কোনো দ্বন্দ্বে জড়ায় না। সারাটা জীবন দ্বন্দ্ব এড়িয়ে চলে। অন্য ছেলেরা হলে মারামারি করে আহত হয়ে ঘরে ফিরত বা আইনি সমস্যায় পড়তে পারতো। রাজনীতি করলে প্রতিহিংসা বাড়ে ও নিরাপত্তাহীনতার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। আমার ছেলের মধ্যে কন্টিনিউয়াস বুলি ও নির্যাতনের ফলে মানসিক ভয় ও ট্রমা তৈরি হয়েছিল বলেই সে স্কুলটি ছেড়ে দিয়েছিল।
অনেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাই আমাকে বলছেন, ০৫ আগস্টের পরে ছাত্র-ছাত্রীদের কথার টোন পরিবর্তন হয়ে গেছে। তারা অল্প বিষয়ে অনেক বেশি প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রতিবাদী হয়ে পড়ছে। এসব আমি অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকার মুখেই শুনেছি। আমাদের শিক্ষকদের ও বাবা-মায়ের উচিত তাদের ছাত্র-ছাত্রী ও সন্তানদেরকে নম্রতা এবং নীতি নৈতিকতা শেখানো। বড়দের সম্মান করতে শেখানো। পরিবার থেকেই যদি শিক্ষককে ডেকে অপমান করা হয় তাহলে ওই সন্তান অমানুষ হয়ে যেতে পারে বলে আমার মনে হয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকরাও বেশ বাড়াবাড়ি করে ফেলেন।
আজকের আমার এই লেখা ভবিষ্যৎ বাবা-মায়ের জন্য যারা নিজের সন্তানকে সভ্য করে গড়ে তুলবেন। এই লেখাটা পলিসি মেকারদের জন্য যারা স্কুল পর্যায়ে রাজনীতি নিষিদ্ধ করবেন। কারণ স্কুল পর্যায়ের রাজনীতি ছাত্র-ছাত্রীদের মানসিক বিকাশে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সত্যি কথা বলতে কি কৈশোরকাল ব্যক্তিত্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই বয়সে রাজনৈতিক বিভাজন সহনশীলতা কমিয়ে দেয়, ভিন্ন মতকে শত্রু হিসেবে দেখার প্রবণতা বাড়ায়। ভিন্ন মতে একসাথে চলার সুযোগ থাকে না। যার কারণে এই দলীয় বিভাজন ছাত্র-ছাত্রীদের মনে আবেগপ্রবণ ও চরমপন্থী চিন্তা তৈরি করতে পারে। অল্প বয়সে পয়সা বানানোর ধান্দা মনের মধ্যে সৃষ্টি হতে পারে। এই লোভ যদি কারো মনে যদি একবার সৃষ্টি হয় তাহলে ছাত্র-ছাত্রী বিপথে চলে যেতে পারে।
আমরা জানি আমাদের দেশে রাজনীতিতে অনেক নেপথ্যের কাহিনী থাকে যা সব দলের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য এবং এটাই সত্যি। এই কারণে আমাদের সন্তানদের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রী দ্বারা প্রভাবিত বা ব্যবহৃত হওয়ারও ঝুঁকিও থাকে। যেহেতু এই বয়সে পরিণত মানসিকতা না থাকার কারণে কিশোর-কিশোরীদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি পরিণত হয় না। ফলে দেখা যায়, বড়রা বা দলীয় স্বার্থে এদেরকে নেতিবাচক ভাবেও ব্যবহার করতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়- কিশোর-কিশোরীরা মিথ্যা তথ্য বা উস্কানিতে সহজে প্রভাবিত হয়। নিজের মতামতের চেয়ে অন্যের এজেন্ডা অনুসরণ করে থাকে ও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে।
সত্যি কথা বলতে কি, অল্প পানির মাছ লাফায় বেশী। এ ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীরা অনেকেই সামান্য ক্ষমতা পেয়েও তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করতে পারে। তাদের মধ্যে নৈতিকতা ও মূল্যবোধে বিচ্যুতি ঘটাতেই পারে। আমরা জানি কখনো কখনো রাজনৈতিক স্বার্থে অসততা, ভয়ভীতি বা চাপ প্রয়োগ করানোর কাজ শেখানো হয়। এই কারণে তারা ক্ষমতা অর্জনকে মূল লক্ষ্য বানিয়ে ফেলতে পারে। এই কারণে তাদের অনেকেই লেখাপড়া থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়। আমার দেখা অনেক ছেলে-মেয়েকে জানি তাদের ভেতরে সততা ও মানবিক মূল্যবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমার সন্তানকে উত্তক্ত করার সময়গুলোতে এ ব্যাপারে শিক্ষকদের যখন জানাই, তারা কিছুদিন পর বলেছিলেন যে, আমরা এই সকল উশৃংখল বাচ্চাদের বাবা-মার সাথে আলোচনা করেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। বাবা-মা বলেছেন যে- তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু তারা করেননি বা করতে পারেননি।
অনেক বাবা-মাই আছেন যারা নিজেদের বাচ্চাদেরকে ক্ষমতাবান দেখতে চান। সে ক্ষেত্রে তাদের সন্তানেরা উগ্র আচরণ করলেও সেগুলো মেনে নেন। বাচ্চারা উগ্র ব্যবহার করলে সামাজিক কোনো চাপ তো আজকাল থাকেই না, পারিবারিক চাপ কতটুকু থাকে আমি জানিনা। তবে আমার সন্তান দু'জনকে আমি পারিবারিক ভাবে এমন শিক্ষায় মানুষ করেছি যে ওরা কোনো দিনও একটা বারের জন্য আমি বা বাইরের কারো সাথে উগ্র ভাষায় কথা বলেনি। সৃষ্টিকর্তা সত্যিই আমার প্রতি দয়াশীল যে আমাকে দুইটি সুসন্তান দান করেছেন যারা খুবই নমনীয় এবং ভদ্র। ওরা যদি উগ্র হত পরিবারের আমরা সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়তাম ও অসুখী হতাম। সন্তানদের বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট হতো, সমাজে নেতিবাচক পরিচয় তৈরি হতো। অথচ এখনো সুনামের সাথে সকল বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়-স্বজনের মাঝে আমার সুসন্তানেরা টিকে আছে। স্কুলের ক্লাসের বাচ্চারা বছরে একবার মিলিত হয়। তাদের নিজেদের ফেসবুক গ্রুপে যুক্ত থাকে।
অনেক ছাত্র-ছাত্রীদের কম বয়সে উগ্র আচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে তাদের জীবনে আইনি জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। সংঘর্ষ বা রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের ফলে কিশোর বয়সেও ছাত্র-ছাত্রীদের মামলা, হামলা বা আইনি ঝামেলায় জড়ানোর ঝুঁকি থাকে। ভালো কিছু শেখা বা জ্ঞানার্জনের পরিবর্তে যখন অন্য কাজে সময় ব্যয় করে, এতে করে ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এই বয়সে বাচ্চাদের পড়াশুনার পাশাপাশি বিজ্ঞান, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, বিতর্ক প্রতিযোগিতা, রচনা প্রতিযোগিতা ইত্যাদি বিষয়ে বিনোদনে সময় ব্যবহার করা দরকার।
টেকনিক্যাল বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি, বাংলা ইংরেজি ছাড়া বহুল ব্যবহৃত ভাষা শিক্ষার দিকেও কৈশোর বয়সে ছাত্র-ছাত্রীদেরকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন যাতে করে অন্য দেশে গিয়ে তারা প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। ইংরেজি প্রতিটা স্কুলে পড়া, লেখা, বলা ও শোনা এই চারটি বিষয় বাধ্যতামূলক করা খুবই জরুরী। বহুল ব্যবহৃত আন্তর্জাতিক ভাষা না শিখলে আসলে শিক্ষার মান থাকেনা। বড় হয়ে দেশে ও বিদেশে ভালো কাজ পায় না। কম বেতনে কাজ করতে হয়। ইংরেজি না জানার কারণে অনেকেই ব্যবসার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সুযোগ সুবিধা করে উঠতে পারে না।
বর্তমানে আমাদের আরও বিকল্প ইতিবাচক পথের গুরুত্ব নিয়ে বিবেচনা করতে হবে। এটা মনে রাখা জরুরি যে, ছাত্ররা সমাজ সচেতন হবে, মতামত রাখবে এটা ভালো। তবে সরাসরি দলীয় রাজনীতির বদলে তারা বই পড়তে পারে, ইতিহাস জানতে পারে, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত হতে পারে, সামাজিক উদ্যোগ যেমন- পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানো, পাশের লেখাপড়া না জানা কাউকে স্বেচ্ছাসেবক হিসাবে শিক্ষা দেওয়া, মানুষকে স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করা। এই কাজগুলো যেমন সমাজের জন্য মঙ্গলজনক তেমন ছাত্র-ছাত্রীদের ও ভবিষ্যতের জন্য একটি শিক্ষণীয় বিষয় হয়ে থাকবে। দরিদ্র মানুষের সাথে মিশে জীবন সম্পর্কে ভালো অভিজ্ঞতা হবে। নেতৃত্ব বিকাশের জন্য তারা দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে, বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ নেয়া কম্পিউটারের নানা দুইটা বিষয় সম্পর্কে জানা, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট নিয়ে তারা এগিয়ে যেতে পারে, পড়াশোনার ফাঁকে ভালো একটা বিষয়ে কনটেন্ট তৈরি করতে পারে, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করতে পারে এবং অবশ্যই তা শিক্ষণীয় বা নৈতিকতা সম্পন্ন হবে।
আমার শেষ কথা হলো- হাই স্কুল পর্যায়ে রাজনীতির জ্ঞান অর্জন ভালো, কিন্তু সরাসরি দলীয় বা সংঘাতপূর্ণ রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়া ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময়টা নিজের শিক্ষা, মূল্যবোধ ও ব্যক্তিত্ব গঠনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং এটাই ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করে। বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে আমার আবেদন, বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের দেশের কৈশোর সমাজকে ঝুঁকির হাত থেকে রক্ষা করবেন।
লেখিকা: নারী উন্নয়ন শক্তির নির্বাহী পরিচালক।