
নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশে মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করা এক চিকিৎসকের হাসপাতালেও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে, যা জনমনে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপনের মতো ব্যয়বহুল চিকিৎসা দিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো ডা. কামরুল ইসলামের হাসপাতালকে লক্ষ্য করে একটি চক্র চাঁদা দাবি করেছে।
জানা যায়, ডা. কামরুল ইসলাম ইতোমধ্যে দুই হাজারেরও বেশি রোগীর শরীরে বিনামূল্যে কিডনি প্রতিস্থাপন করেছেন। মানবিক এই উদ্যোগ দেশজুড়ে প্রশংসিত হলেও, সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজ চক্র তার হাসপাতালকে টার্গেট করে। তারা রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে অর্থ দাবি করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, যে ব্যক্তি নিজের স্বার্থ না দেখে মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করে যাচ্ছেন, তাকে যদি চাঁদাবাজদের মুখোমুখি হতে হয়, তবে সেটি সমাজ ও রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু অসাধু ব্যক্তি যখন মানবিক সেবামূলক কার্যক্রমেও বাধা সৃষ্টি করে, তখন তা শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতাই নয়, বরং নৈতিক অবক্ষয়েরও প্রমাণ বহন করে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর ভাবমূর্তি নষ্ট করে এবং জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।
সচেতন মহল বলছে, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের মতো অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এর বিরুদ্ধে সামাজিক ও আইনি প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। মানবতার সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে সাধারণ জনগণ মানবিক চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
শেষ কথা:
মানবতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কোনো গোষ্ঠীই দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না—এমনটাই মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। মানবিক উদ্যোগকে রক্ষা করা এবং অপরাধের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিবাদই হতে পারে এর একমাত্র সমাধান।