নিজস্ব প্রতিবেদক, দৈনিক ঢাকার কণ্ঠ
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। বিশেষ করে Dhaka মহানগরীর উত্তরা, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, যাত্রাবাড়ী ও সবুজবাগ এলাকায় সন্ধ্যার পর ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও মারামারির ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।
গ্যাং সংস্কৃতির বিস্তার কীভাবে?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী কিশোরদের নিয়ে ছোট ছোট গ্রুপ গড়ে উঠছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের আলাদা নাম ও পরিচয়ে সক্রিয়। অনেক ক্ষেত্রে মাদক সেবন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পার্ক, ফাঁকা গলি ও মার্কেটের সামনে আড্ডা দিয়ে তারা পথচারীদের মোবাইল ফোন ও অর্থ ছিনিয়ে নিচ্ছে।
কিছু এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ইফতার মাহফিল, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বা সামাজিক অনুষ্ঠানের নামে চাঁদা আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান
পুলিশ সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাং দমনে বিশেষ নজরদারি ও অভিযান চলছে। সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় একাধিক কিশোরকে আটক করা হয়েছে। তবে অভিভাবক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয় ছাড়া এ সমস্যা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন বাড়ছে এই প্রবণতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে—
পারিবারিক অবহেলা ও পর্যবেক্ষণের অভাব
অনলাইন সহিংস কনটেন্টে প্রভাবিত হওয়া
বেকারত্ব ও হতাশা মাদকের সহজলভ্যতা
এসব কারণ কিশোরদের বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু গ্রেপ্তার নয়—পুনর্বাসন, কাউন্সেলিং ও সামাজিক সম্পৃক্ততা জরুরি।
সাধারণ মানুষের দাবি স্থানীয়দের দাবি—নিয়মিত টহল জোরদার পার্ক ও স্কুল এলাকার সিসিটিভি বাড়ানো
মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
কিশোরদের জন্য খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রম বৃদ্ধি
রাজধানী কি ক্রমেই কিশোর গ্যাং সংস্কৃতির কবলে পড়ছে—নাকি সময় থাকতে সমন্বিত উদ্যোগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব? এখন এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নগরবাসী।