
রাজধানীর উত্তরা ‘কম্বে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বার’ নাম একটি মদের বারে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। অভিযানকালে ৫৭ নারীসহ ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রহস্যজনক কারণে সেখান থেকে কোনো মদ-বিয়ার জব্দ করা হয়নি।
উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের ময়লার মোড় সংলগ্ন ওই মদের বারে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দিবাগত রাত থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে দেখা যায়, সোনারগাঁও জনপথ রোডের বারের ভবনটির তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম তলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রেস্টুরেন্টের অন্তরালে মদের বারের কার্যক্রম চলে আসছিল। সেখানে শুধু মদই নয়, বারে আসা কাস্টমারদের বিনোদনের জন্য নারীও ছিল। এ ছাড়াও ওই নারীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গভাবে সময় কাটানোর জন্য পঞ্চম তলায় বেশ কয়েকটি রুমেরও ব্যবস্থা ছিল।
অভিযানের সময় বারটিতে কিশোরগ্যাং লিডার, বিএনপির নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজনকে দেখা যায়। এসময় কয়েকজনকে পুলিশের সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় বাগবিতণ্ডাতেও জড়াতে দেখা যায়।
এদিকে বহু যুবক ও যুবতীকে বারের টয়লেট, বারান্দা, সোফা এবং রান্নাঘরে আত্মগোপনে থাকতে দেখা যায়। পরে তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন ডিএমপি'র উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ। অভিযানে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ অংশ নেয়। তবে সহযোগিতার জন্য গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) উপস্থিত ছিল। এ ছাড়াও সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারাও ছিলেন।
সূত্রে জানা যায়, ওই বারটি উত্তরায় পরিচালনার কোনো অনুমতি নেই। এ ছাড়াও পর্যটন করপোরেশন ব্যতীত অবৈধ উপায়ে আসা মদ ক্রয়-বিক্রয় করত। রাতের আঁধারে রঙিন আলোয় গভীর রাত পর্যন্ত চলত অর্ধনগ্ন নৃত্য। উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের অবাধ যাতায়াত ছিল। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের মাসোহারার বিনিময়ে বারটির কার্যক্রম চলে আসছিল।
অভিযান প্রসঙ্গে উত্তরা বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মির্জা তারেক আহমেদ বেগ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘কিশোরগ্যাং ও মাদকের বিরুদ্ধে আমরা অভিযান শুরু করেছি। কম্বে রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বারে অভিযান চালিয়ে আমরা ১৪০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি। যাদের মদ খাওয়ার কোনো লাইসেন্স নেই। থাকলেও এই বারের লাইসেন্স ছিল না।’
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তের তদারকির বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পুলিশের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে পুরো দেশকে মাদকমুক্ত করতে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আপনাদের (সাংবাদিক) এবং পুরো দেশবাসীর সহযোগিতা চাই। আশা করি অচিরেই আমরা ভালো কিছু দেখতে পাবো।’
উত্তরার অন্যান্য বারের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিসি তারেক বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে অভিযান পরিচালনা করা হবে। আমি একটি কঠোর বার্তা দিতে চাই— জিরো টলারেন্স নয়, অ্যাকশন চলবেই। পুলিশ পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনি শাসন হবে আমার শেষ কথা।’
এসময় উত্তরা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আরিফুল ইসলাম, উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালিদ মনসুর, পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মনিরুজ্জামান, পরিদর্শক (অপারেশন) মো. নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, মদের বার থেকে আটক হতে দেখলেও কয়েকজন কিশোরগ্যাং লিডার, রাজনৈতিক নেতা ও ব্যবসায়ীকে অভিযানের পর পরই বারের আশপাশ এলাকায় মুক্ত অবস্থায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। কিন্তু মদের বার থেকে আটক করে নিচে নামানোর সময় তারা কীভাবে ছাড়া পেল, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কিছুই জানা যায়নি। থানায় গিয়েও জানা গেছে, ১৪০ জন নেই। রয়েছেন ৫৭ নারীসহ ১২৪ জন। আটকের পর মুক্ত হওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বৈষম্যবিরোধী নেতা বলেন, টাকা হলে এদেশে সবই সম্ভব।
থানায় খোঁজখবর নিয়ে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, কম্বে বারটির মালিক কর্তৃপক্ষের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বারটির স্টাফদের আটকের পরও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। শুধু মদ্যপান করতে আসা যুবক-যুবতী ও তাদের বিনোদনের জন্য রাখা যুবতী ও তরুণীদের আটক করা হয়েছে।