
বিশেষ প্রতিবেদন :
রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো রাজস্ব আয়। নাগরিকদের কাছ থেকে আদায়কৃত করের টাকায়ই চলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, অবকাঠামো নির্মাণ, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ নানা খাত। কিন্তু সেই গুরুত্বপূর্ণ খাতেই যদি দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে, তখন তা শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সুশাসনের ওপরও বড় ধরনের প্রশ্ন তোলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, দেশে কর ফাঁকি ও রাজস্ব খাতে অনিয়মের সঙ্গে কিছু অসাধু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর কিছু কর্মকর্তা ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগসাজশ করে কর ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কর নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে আয়ের পরিমাণ কম দেখানো, ভ্যাট ফাঁকির সুযোগ দেওয়া, কাস্টমস শুল্কে অনিয়ম—এসব ক্ষেত্রেই কিছু কর্মকর্তার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন অবৈধ আর্থিক সুবিধা। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, যা দেশের উন্নয়ন ব্যাহত করছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এই ধরনের দুর্নীতি শুধু সরকারের রাজস্ব ঘাটতি বাড়ায় না, বরং সৎ করদাতাদের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশে বৈষম্য তৈরি করে। যারা নিয়ম মেনে কর দেন, তারা
প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজস্ব খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে ডিজিটালাইজেশন বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির অভিযোগে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা জরুরি। একইসঙ্গে কর ব্যবস্থাকে সহজ ও স্বচ্ছ করা গেলে কর ফাঁকির প্রবণতাও কমবে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে নানা সময় কঠোর অবস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন এখনও পুরোপুরি দৃশ্যমান নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, রাজস্ব খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর নজরদারির কোনো বিকল্প নেই।
রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে রাজস্ব খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় দুর্নীতি ও কর ফাঁকির এই চক্র দেশের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে