
মোঃ জসিম উদ্দিন তুহিন যশোর জেলা প্রতিনিধি
দীর্ঘ প্রায় দুই দশকের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ দুপুরে ঐতিহাসিক উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে উপস্থিত হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের কিছু সময় আগে তিনি জনসভাস্থলে এসে পৌঁছালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় নেতাকে সরাসরি সামনে দেখে উপস্থিত লাখো নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের গগনবিদারী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো যশোর শহর।যশোরে নির্বাচনী জনসভায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, একটি দল ৫ আগস্টের পর মা-বোনদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করছেন ও মা-বোনদের ঘরে বন্দি করতে চাচ্ছেন।
তারা এনআইডি নাম্বার ও বিকাশ নাম্বার নিচ্ছেন। তাহলে অসৎ প্রস্তাব দিয়ে তারা কিভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে।সকাল থেকেই যশোরের বাঘারপাড়া, ঝিকরগাছা, চৌগাছা, অভয়নগর ও মণিরামপুরসহ আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ ।সকাল থেকে সমাবেশস্থলের দিকে আসতে শুরু করে নেতা কর্মীরা। বেলা বাড়ার সাথে সাথে জনস্রোত উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে। নেতাকর্মীদের হাতে ছিল রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন আর প্ল্যাকার্ড।মঞ্চে ওঠার পর তারেক রহমান সমবেত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজকের এই জনসভা থেকে তিনি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য আগামীর বাংলাদেশের একটি সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা Vision তুলে ধরবেন। দীর্ঘ সময় পর সরাসরি জনসমক্ষে তার এই উপস্থিতি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে।যশোরের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজকের এই সমাবেশকে অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সাধারণ মানুষের ধারণা, তারেক রহমানের এই সফর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খননকৃত সেই উলাসী খালসহ এ অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুণরায় চালু করা হবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে সব প্রকল্প নেওয়া হবে সাধারণ মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্যে।বিএনপি সরকার গঠন করলে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিম ও অন্য ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্র সম্মানী দেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষকে সাথে নিয়ে দেশ গড়বে।উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে যশোরের ফুলকে বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চালু করা হবে এ অঞ্চলের চিনিশিল্পগুলো।জনসভায় বক্তৃতার মাঝে যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার ২২টি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদেরকে বিজয়ী করার আহবান জানান তারেক রহমান।এর আগে সোমবার দুপুর আড়াইটায় মঞ্চে আসেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। মঞ্চে উঠে তিনি শ্লোগানমুখর নেতাকর্মীদের উদ্দেশে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান। এরপর ২টা ৩৯ মিনিটে তিনি ভাষণ শুরু করেন। ৩৩ মিনিটের ভাষণে তিনি বিএনপির পরিকল্পনা, জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তাদের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র-মিথ্যাচার তুলে ধরেন। একইসাথে নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে এবং ভোটের দিন কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে জনসভায় বক্তব্য দেন, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু, সহ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাকির হোসেন সরদার, নড়াইল জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম, মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহমদ, ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ, যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু প্রমুখ। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন জনসভা পরিচালনা করেন।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে প্রশাসন, পুলিশ মোতায়েন: পাঁচ শতাধিক সদস্য নিয়োজিত রয়েছেন, প্রযুক্তিগত নজরদারি: শতাধিক পুলিশ সদস্য বডি ক্যামেরা ব্যবহার করছেন ও সিসিটিভির মাধ্যমে পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং র্যাব টহল: র্যাবের ছয়টি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক টহলে রয়েছে।যশোরের রাজনৈতিক ইতিহাসে আজকের এই সমাবেশকে অন্যতম বৃহত্তম ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, তারেক রহমানের এই সফর দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।