
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা নিশ্চিতে নয় দফা আমাদের প্রস্তাবনা” শীর্ষক একটি গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম।
বৃহস্পতিবার তারিখ (১৪ মে ২০২৬) ইং দুপুরে উত্তরার ১৪ নম্বর সেক্টরে হেযবুত তওহীদ-এর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকে বর্তমান বিশ্বের অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরে হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থা ফিলিস্তিন ও মিয়ানমার-এর মতো অঞ্চলে নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে। দেশে গত কয়েক বছরে গণপিটুনি ও উগ্রবাদী সহিংসতার ঘটনায় জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এসব পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে তিনি সাংবাদিকদের সামনে নয় দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন।
প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে ছিল— বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন বন্ধ, ব্রিটিশ আমলের অর্থনির্ভর বিচারব্যবস্থার সংস্কার করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, উগ্রবাদ ও সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ মোকাবিলায় সঠিক ধর্মীয় ব্যাখ্যা ও পাল্টা আদর্শিক অবস্থান গড়ে তোলা, মুসলিম বিশ্বে আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় জীবনে প্রতিষ্ঠা, আন্তঃধর্মীয় সংলাপের মাধ্যমে বাক-স্বাধীনতা ও বিশ্বাসের পারস্পরিক সম্মান নিশ্চিত করা, ঔপনিবেশিক ধাঁচের বহুমুখী শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তে একক শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা, পুলিশ বাহিনীকে জনগণবান্ধব করা এবং গণমাধ্যমকে কর্পোরেট ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার দাবি। বক্তৃতায় তিনি বলেন, উগ্রবাদ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যতম প্রধান কারণ। উগ্রবাদীরা ধর্মগ্রন্থের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। এটি মোকাবিলায় শুধু শক্তি প্রয়োগ নয়, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে

ধরে শক্তিশালী আদর্শিক অবস্থান গড়ে তোলা জরুরি। মূল প্রবন্ধে ‘জেহাদ’ ও ‘কেতাল’-এর পার্থক্য ব্যাখ্যা করে বলা হয়, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত সশস্ত্র হামলা ইসলামে বৈধ নয় এবং তা সন্ত্রাসবাদের শামিল।
এসময় হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম অভিযোগ করেন, একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী হেযবুত তওহীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তিনি দাবি করেন, ইতোমধ্যে সংগঠনের পাঁচজন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং গাজীপুর, পাবনা, শেরপুর ও লক্ষ্মীপুর-সহ বিভিন্ন এলাকায় বহু ঘরবাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। তিনি রাষ্ট্র, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সংগঠনের সব থানায় কমিটি না থাকলেও রাজধানীসহ দেশের ২২৫টি থানায় ইউনিট কমিটি রয়েছে এবং ৬০ জেলায় সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমান সরকারের কাছে প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করে একটি মহল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সহিংসতা চালিয়ে দায় চাপিয়ে দিচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে তারা সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আইনি সুরক্ষা প্রত্যাশা করেন।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, যারা পবিত্র কুরআনের আইন মানে না, তারা মুসলমান দাবি করতে পারেন না। ব্রিটিশ বিচারব্যবস্থার পরিবর্তে কুরআনভিত্তিক বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়ে তিনি দাবি করেন, বর্তমান বিচারব্যবস্থার জটিলতার কারণে দেশে বিপুলসংখ্যক মামলা দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে এবং দুর্বল মানুষের ওপর ধনীদের নির্যাতন বাড়ছে।
ডা. মাহবুব আলম মাহফুজ-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খাদিজা খাতুন, মো. মশিউর রহমান, রুফায়দাহ পল্লী, মুখলেছুর রহমান, উত্তরা প্রেসক্লাব-এর সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের।