বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:০২ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
এমপি হবার শিক্ষাগত যোগ্যতার গুরুত্ব ও মতামতহিউম্যান এইড এর বিশ্লেষণ ও গবেষণা ভিত্তিক প্রতিবেদন] কালীগঞ্জে পারুলী নদী থেকে মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারি আজ আর নেই, কিন্তু আছে তার রচিত ১০০ পৃষ্ঠারও কম কালজয়ী গ্রন্থ ‘গীতাঞ্জলি’ বাবুরাইলে সন্ত্রাসী হামলায় যুবক আহত, সন্ত্রাসী নুর হোসেন গ্রেপ্তার বন্দরে কিশোরীর আত্মহত্যা পরিবার সহ প্রেমিক পলাতক সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য আ.লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন যাঁরা ঢাকা ১৮ কে চাঁদা বাজ মুক্ত করতে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলেন – খশরু চৌধুরী আলোকিত সমাজ গড়ার কারিগর “শাহেদা স্মৃতি পাঠাগার” ২০২৩ সালে জরিপে নিহত ৮৫০৫ জন সড়ক দুর্ঘটনায় নিয়ে আর তথ্য দেবে না নিরাপদ সড়ক চাই ( নিসচা )  

যে কারনে কলাপাড়া ইউপি নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি

যে কারনে কলাপাড়া ইউপি নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি

রাসেল মোল্লা কলাপাড়া পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:// ঢাকার কন্ঠ

 

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে দলের ঘোষণা থাকলেও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নে আশানুরূপ ফল পায়নি বিএনপি। দলে সমর্থিত প্রার্থী ধানখালী ইউনিয়নে কামরুজ্জামান কাজল, বালিয়াতলী ইউনিয়নে নুরুল কবির ঝুনু, চম্পাপুর ইউনিয়নে মুস্তাক আহমেদ, মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নে মো: মনির রহমান ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে মুসফিকুর রহমান এর ব্যাপক ভরাডুবি হয়েছে।

এতে নির্বাচন কমিশনে জমাকৃত জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন নির্বাচন কমিশন।

সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে এমন ফলাফল হয়েছে বলে মনে করেন দলের নেতারা। এছাড়া দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকেও দায়ী করেছেন কেউ কেউ।
দীর্ঘ কয়েক বছর পর আইন শৃঙ্খলা বাহীনির কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে এবার ২৯ শে মার্চ বৃহস্পতিবার অবাদ ও শান্তি পূর্ণ নির্বাচন হয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায়। এই নির্বাচন কলাপাড়ার ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে বলে জানান প্রার্থীসহ ভোটাররা।

নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায় মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নে বিজয়ী কাজী হেমায়েত উদ্দিন হিরণ (নৌকা) ৫২৬৭ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদন্ধি ইসলামি শাসনতন্ত্র আন্দোলন বাংলাদেশ (হাত পাখা) মোঃ মাহবুবুর আলম পেয়েছেন ১০২৭ ভোট ও বিএনপির প্রার্থী মোঃ মনিবর রহমান (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৫৪০ ভোট।

ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে বিজয়ী প্রার্থী আবদুস সালাম সিকদার (নৌকা) পেয়েছেন ৩৫৯৫ ভোট, নিকটতম প্রতিদন্ধি মোঃ আবদুল মালেক (হাতপাখা) পেয়েছেন ২১৭১ ভোট। ধানের শীষের মুসফিকুর রহমান পেয়েছন ৭২০ ভোট। বালিয়াতলী ইউনিয়নে হুমায়ুন কবির (নৌকা) পেয়েছেন ৭৯১১ ভোট, তার নিকটতম প্রতিদন্ধি নুর ইসলাম সরদার (হাতপাখা) ১১৮৮ ভোট ও ধানের শীর্ষের নুরুল কবির ঝুনু পেয়েছেন ৮২৯ ভোট।

চম্পাপুর ইউনিয়নের নৌকা প্রতিকের রিন্টু তালুকদার ৩৭৮৩ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, তার নিকটতম প্রতিদন্ধি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোঃ শাখাওয়াত রহমান শামীম ২২২৩ ভোট, হাতাপাখা প্রতিকের মোঃ দেলোয়ার হোসেন ৮৪১ ভোট ও ধানের শীষের মুস্তাক আহম্মেদ পেয়েছেন ২৫৭ ভোট। ধানখালী ইউনিয়নের আওমীলীগ বিদ্রোহী গোড়া প্রতিকের মোঃ রিয়াজ উদ্দিন ৩৯৭৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, হাতাপাখা প্রতিকের হারুণ অর রশিদ পেয়েছেন ১৫৭৪ ভোট এবং ধানের শীর্ষের কামরুজ্জামান কাজল পেয়েছেন ৫১৬ ভোট।

গড়ে শতকরা ৮০ ভাগ ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেছেন। এই ফলাফলে আ’লীগের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত রয়েছেন। কিন্তু হতাশ বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা।
এর জন্য তৃণমূল কর্মীরা দায়ী করছেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবিএম মোশাররেফ হোসেনকে। তাদের অভিযোগ বিএনপির ওই নেতা প্রতিনিয়ত টকশো নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এলাকার নেতা কর্মীদের খোঁজ খবর নেননা।
এছাড়াও

বিএনপির পরাজয়ের ১০ টি কারণ চিহ্নিত করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
১। বিএনপির দিক নির্দেশনা দেওয়ার মত নেতৃত্ব বর্তমান কমিটিতে নেই।
২। যোগ্য প্রার্থী থাকা স্বত্বেও অযোগ্য ও তেলাবাজ সুবিধাবাধিদের মনোনয়ন দেয়া। ৩। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে একই নেতা দিয়ে উপজেলা বিএনপির পকেট কমিটি গঠন।
৪। ইউনিয়নে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে উপজেলা বিএনপি সভাপতি ঢাকা বসে ইচ্ছামত ইউনিয়ন কমিটি গঠন করে।

৫। উপজেলা বিএনপি নেতারা নির্বাচনের সময় ইউনিয়নে না যাওয়া।
৬। উপজেলা বিএনপির সভাপতি/সম্পাদক এর অনুগত নেতারা প্রকাশ্যে নৌকার মঞ্চে উঠে তাদের পক্ষে ভোট চায়।
৭। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবী কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির নেতাদের আন্দোলন সংগ্রামে ভূমিকা না রাখা।
৮। জনপ্রিয় নেতাদের সাথে আলোচনা না করে উপজেলা বিএনপি সভাপতির একক সিদ্ধান্তে দলীয় মনোনয়ন দেয়ার কারণে একসময়ের জনপ্রিয় দলটি বিএনপির সদ্য সমাপ্ত পাঁচ ইউপি নির্বাচনে লজ্জা জনক পরাজয় হয়েছে।

এ ব্যাপারে ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মুসফিকুর রহমান সবুজ গাজী ও ধানখালী ইউনিয়নের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার বলেন, নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়েছে। তবে সরকারি দলীয় প্রার্থী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানোর কারণে আমাদের পরাজয় হয়েছে। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা আমাদের কোন সহযোগিতা করেন নি।

এ ব্যাপারে পৌর বিএনপির সভাপতি উপাধ্যক্ষ নূর বাহাদুর তালুকদার বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু শান্তিপূর্ন ভাবে হয়েছে উপজেলার সভাপতি কারাগারে সাধারণ সম্পাদক একটি মামলার আসামী আমি দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার কারণে কোন ইউনিয়নে আমরা যেতে পারি নাই। এজন্য আমাদের পরাজয় হয়েছে। আমাদের ইউনিয়নের কিছু নেতাকর্মী প্রকাশ্যে সরকার দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে অচীরেই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আঃ মালকে খান বলেন, কলাপাড়া বিএনপির সভাপতি মোশাররফ হোসেন তার একক সিদ্ধান্তে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন সে ঢাকায় অবস্থান করেন। নির্বাচনী এলাকায় একদিনের জন্যও আসে সি। প্রার্থীদের খোঁজ খবর রাখেন নি। সে জন্য আমাদের প্রার্থীদের পরাজয় হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহল মনে করেন সদ্য সমাপ্ত পাঁচটি ইউপি নির্বাচনের ফলাফলের প্রভাব আগামী জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীর্ষ প্রতিকের প্রার্থীর উপর প্রভাব পরবে।

Please Share This Post in Your Social Media

দৈনিক ঢাকার কন্ঠ
© All rights reserved © 2012 ThemesBazar.Com
Design & Developed BY Hostitbd.Com