সংবাদ শিরোনাম
‎যশোরে বিজিবির অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল আটক সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলার অভিযোগ, নিন্দা জানিয়েছে সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূলে বড় পদক্ষেপ: যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কতকিছুর হাট আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন মহলের শোক আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি। হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা” নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করলেই ডিজিটাল মামলা : ডিএমপি কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের বড় অভিযান পৌনে ৭ কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসি কষ্ট করবে এটা হতে পারে না-ডিএনসিসি প্রশাসক

গ্যাস সংকটে ধসে পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, চট্টগ্রামে চরম ভোগান্তি  

admin / ২৯ Time View
Update : শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

63

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

মোঃ শহীদুল ইসলাম  বিশেষ প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম  

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি এখন চরম সংকটপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে। উৎপাদন ব্যবস্থায় ধারাবাহিক ধস, গ্যাস সরবরাহে অস্থিরতা এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো নগরজুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

লোডশেডিংয়ের পরিমাণ এখন ২৫০ থেকে ২৮০ মেগাওয়াটে পৌঁছে গেছে। ফলে দিন ও রাত মিলিয়ে নগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্প ও বাণিজ্যিক খাতে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার ২৮টি কেন্দ্রের মধ্যে অন্তত ৬টি কেন্দ্র বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের একাধিক ইউনিট, রাউজান-১ ও রাউজান-২ কেন্দ্র এবং জুডিয়াক কেন্দ্র উল্লেখযোগ্যভাবে বন্ধ রয়েছে।

ফলে জাতীয় গ্রিডে চাপ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে। সচল কেন্দ্রগুলোর অনেকই আংশিক সক্ষমতায় পরিচালিত হওয়ায় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমে যাচ্ছে।

উৎপাদন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে এনলিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে। এখানে উৎপাদন সকাল ১০০ মেগাওয়াট থেকে নেমে সন্ধ্যায় মাত্র ১৭ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে, যা সংকটের গভীরতাকে আরও স্পষ্ট করে।

আনোয়ারা ইউনাইটেড, বিআর পাওয়ার ও এনার্জিপ্যাকসহ একাধিক কেন্দ্র আংশিকভাবে চালু থাকলেও পূর্ণ সক্ষমতায় নেই। অন্যদিকে মাতারবাড়ি ও শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে কিছু উৎপাদন পাওয়া গেলেও তা মোট চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল।

চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকৃত লোডশেডিং সরকারি হিসাবের তুলনায় আরও বেশি বলে সংশ্লিষ্ট মহল ধারণা করছে।

নগরীর বন্দরটিলা, চকবাজার, বহদ্দারহাট, আগ্রাবাদ ও হালিশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত রয়েছে।

একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে, ফলে পানি সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সংকটের মূল কারণ গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি এবং উৎপাদন সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও আরও বৃদ্ধি পেলেও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা সেই চাপ গ্রহণে সক্ষম হচ্ছে না।

এছাড়া জ্বালানি তেলের ঘাটতি, রক্ষণাবেক্ষণ সংকট এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু চট্টগ্রামের সমস্যা নয়—জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুতর সতর্ক সংকেত। দ্রুত সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category