কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ঃ
রাজিবপুরের ছাত্রদলের ভাইয়েরা সাধারণ মানুষের আবেগে হি’সু করে দিয়েছে। সম্প্রতি, আমরা রাজিবপুরে ছাত্রদলের নানা ধরনের ভালো কাজ দেখে প্রশংসায় ভাসিয়েছিলাম। তারা এলাকায় অ’ন্যা’য়ের বি’রু’দ্ধে যে তৎপরতা দেখিয়েছিল আমরা সবাই তাদের বাহবা দিয়েছি। সাধারণ মানুষের ভালোবাসা পেয়ে তারা কিছু আরও শ’ক্ত অবস্থানে যায়। তাদের এসব ভালো কাজের তৎপরতায় ভ’য়ে কাঁ’পতে থাকে রাজিবপুরের অ’সাধু কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও তেল ব্যবসায়ীরা৷
বলতে পারেন হঠাৎ করে কেন এসব বিষয় আবার কথা বলছি। আসুন একটু বিস্তারিত বলি।
যখন ছাত্রদলের ভ’য়ে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা নতজানু ঠিক এই সুযোগ টা কাজে লাগিয়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সরকারি বাজার মূল্য তেল নিতে থাকে। প্রথম দিকে এসব তেল নিজেদের বাইকে তুললেও কয়েকদিন পর তেল বেশি হয়ে যাওয়া ও তেল সংক’টের সুযোগ কে পুঁজি করে ওই সব তেল বিক্রি শুরু করে তারা। এখন বলবেন নাম কেন বলছি না, পড়তে থাকেন নিচে নামও প্রকাশ করবো।
যেখানে তেল সংক’ট কাটিয়ে উঠতে স্বয়ং সরকার ব্যবসায়ী সি’ন্ডি’কে’ট ভা’ঙতে তেলের দাম বাড়িয়েছে, সেখানে সরকার দলের ছাত্র সংগঠন অ’সাধু ব্যবসায়ীদের সাপোর্ট দিচ্ছে লিটারে ২০০ টাকা করে তেল বিক্রি করতে। বিনিময়ে ওইসব ব্যবসায়ীদের থেকে সরকারি মূল্যে তেল নিয়ে সেই তেল ছাত্রদল নেতারা বিক্রি করছে ২৫০ টাকা লিটারে!
আসুন মূল কথায় আসি:
শুধু তাই নয় বিশ্বস্ত সোর্স জানিয়েছে, এই তেল বিক্রি করা নিয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদ ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল হোসেনের মধ্যে বাকবিতন্ডাও হয়েছে। সোর্সের তথ্য মতে, ওইদিন রাত সাড়ে ১১ বা ১২ টার দিকে ব্যবসায়ীদের থেকে প্রথমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা যুবদলের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রঞ্জুর দোকানে (থানা মোড়ে এরশাদ মেকারের দোকান)। ওই তেল ওই দোকানের সামনে নিয়ে যান আরেক সেচ্ছাসেবক দল নেতা খুরশিদ আলম। যেটা ওই দিনের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলেই প্রমাণ পেয়ে যাবেন। আর হ্যা, তেল জেরিকেন টা ছিলো সাদা রঙের এবং তেল ছিলো আনুমানিক ৩০ লিটার বা এর ওপরে।
এরপর, সেখান থেকে তেল গুলো নিয়ে যায় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শামীম আহমেদ তার এলাকায় সেখান থেকেই ওইসব তেল ২৫০ টাকা লিটারে বিক্রি করা হয় বলে জানান আমাদের সোর্স। তারপর, এনিয়ে প্রথম দফায় রুবেল হোসেনের সাথে বটতলায় বা’কবি’ত’ন্ডা হয় শামীম আহমেদের। পরে একই ঘটনায় বা’কবি’ত’ন্ডা রাজিবপুর বাজারের চকি হাটিতে (শফিকুলের চায়ের দোকানে)। সোর্স জানিয়েছে, রুবেল হোসেন চেয়েছিলেন তেল গুলো তাদের নেতাকর্মীদের মাঝে বিলিয়ে দিতে কিন্তু শামীম আহমেদ তার কথা না মেনে বা না শুনে তেল গুলো বিক্রি করে দেয় উচ্চ মূল্যে।
কি বুঝলেন? হ্যা, সব জায়গাতেই এমন কিছু মানুষ থাকে। যারা সামান্য লো’ভ সামলাতে পারে না। এরাও এলাকার বড় রাজনীতিবিদ। যেখানে তেলের অভাবে কৃষক ফসল ফলাতে পারছে না। গণমাধ্যমে প্রতিদিন দেখতে হচ্ছে কৃষকের চোখের পানি, সরকার চেষ্টা করছে প্রতিনিয়ত কিভাবে এসব সংকট কাটিয়ে উঠা যায়। সেখানে সরকার দলের নেতাকর্মীরাই লো’পা’ট করছে তেল, বিক্রি করছে চড়া দামে। যেখানে ব্যবসায়ীদের সি’ন্ডি’কে’ট ভেঙে সরকারি মূল্যে কৃষকরা কিভাবে তেল পায় সে-ব্যবস্থা করার, কিন্তু তারা করছে উল্টো টা। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষু’ণ্ন করছে স্বয়ং সরকার দলের নেতাকর্মীরাই৷
আগেও বলেছি সবাই এমন না। এর মধ্যে, কয়েকজন আছে যারা সরকারের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে যথেষ্ট চেষ্টা করে চলছেন। সিনিয়র নেতাদের সময় এখন নেতৃত্ব কার বা কাদের হাতে তুলে দেবেন সেবিষয়ে ভাববার। বেগম জিয়ার সেই কথা আবারও মনে পড়ে গেলো, ‘আমি সংখ্যা দেখতে চাই না, আমি চাই কোয়ালিটি। বস্তির ছেলে-পেলে দিয়ে দল ভারী হোক আমি তা দেখতে চাই না’। শব্দ গুলো হয়তো এলোমেলো হয়েছে কিন্তু বেগম জিয়ার মেসেজ টা এমনই ছিলো।