সংবাদ শিরোনাম
সত্যের মঞ্চ না রাজনৈতিক অঙ্গন?সাংবাদিকতা ও রাজনীতির সীমারেখা নিয়ে নতুন বৈশ্বিক ভাবনা রাজশাহীতে বিপিডব্লিউএন কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংক্রান্ত আলোচনা সভা ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত রাজপথের ‘খড়কুটো’ বনাম ক্ষমতার হালুয়া-রুটি: কর্মী, তোমার বিবেক জাগবে কবে? নিকুঞ্জ থেকে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা রবিন হোসেন রাহাত আটক নিউইয়র্কে ডেন্টিস্ট্রিতে এমএস সম্পন্ন করলেন ডা. উম্মে রুম্মান সেজুতি প্রাথমিক শিক্ষকদের ভোগান্তি কমাতে বদলি প্রক্রিয়ায় বড় সংস্কার: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ অন্যায়ের মুখে অবিনাশী কলম ঢাকা-আঙ্কারা অক্ষ: দক্ষিণ এশীয় রাজনীতির নতুন সমীকরণ নিরাপদ খাদ্য, কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতের প্রত্যয়ে এক ভিন্নধর্মী উদ্যোগ সাংস্কৃতিক শিক্ষা নতুন প্রজন্ম গঠনের অপরিহার্য অংশ: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

জিয়াউর রহমান’ই বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি ও একমাত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রনায়ক

admin / ৬২ Time View
Update : রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬
Oplus_16908288

84

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

– প্রফেসর ড. আসিফ মিজান, রাজনীতি বিশ্লেষক। 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতা ও সাংবিধানিক পথপরিক্রমা পর্যালোচনা করলে কিছু সত্য প্রদীপ্ত সূর্যের মতো ভাস্বর হয়ে ওঠে, যা কোনো রাজনৈতিক বিতর্ক বা অপপ্রচারে ম্লান করা সম্ভব নয়। তথ্যের আলোয় বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশের ইতিহাসে দুটি অনন্য রেকর্ডের অধিকারী একজন ব্যক্তিই—তিনি হলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)। প্রথমত, তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রথম প্রত্যক্ষ বা সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। দ্বিতীয়ত, তিনিই এ দেশের একমাত্র সরকার প্রধান ও রাষ্ট্রপ্রধান, যিনি ছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সম্মুখসমরের এক বীর সেনানী, সেক্টর কমান্ডার এবং জেড ফোর্সের অধিনায়ক।

আজকের প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ চিত্রটি নিখুঁতভাবে তুলে ধরা জাতীয় দায়িত্ব।

১৯৭৮ সালের ৩ জুন: ব্যালটের মাধ্যমে প্রথম নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সাত বছর ধরে কোনো রাষ্ট্রপতিই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হননি। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ধরে যারা রাষ্ট্রপতির আসনে বসেছেন, তারা প্রত্যেকেই ছিলেন মনোনীত, সংসদীয় ব্যবস্থায় সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত কিংবা বিশেষ রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে দায়িত্বপ্রাপ্ত।

১৯৭৮ সালের ৩ জুন বাংলাদেশ প্রত্যক্ষ করে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত হয় ইতিহাসের প্রথম সরাসরি ও প্রত্যক্ষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সেই নির্বাচনে ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল (অব.) এম. এ. জি. ওসমানী (গণতান্ত্রিক ঐক্য জোট)।

নির্বাচন কমিশনের সরকারি উপাত্ত অনুযায়ী, সেই নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৫৪.২৭ শতাংশ। জিয়াউর রহমান ১ কোটি ৫৭ লক্ষ ৩৩ হাজার ৮০৭টি ভোট (মোট ভোটের ৭৬.৬৩%) পেয়ে বিপুল ব্যবধানে বাংলাদেশের প্রথম সরাসরি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এর মধ্য দিয়ে দেশে প্রথমবারের মতো ব্যালটের মাধ্যমে জনগণের সরাসরি ম্যান্ডেট নিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের ধারা সূচিত হয়।

পূর্ববর্তী রাষ্ট্রপতিদের প্রেক্ষাপট: কেন কেউ নির্বাচিত ছিলেন না?

জিয়াউর রহমানের পূর্বে যারা বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের আসার পথটি লক্ষ্য করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে:

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (প্রথম মেয়াদ): ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতি মনোনীত হন।

সৈয়দ নজরুল ইসলাম: বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি থাকায় স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী ও মোহাম্মদ মোহাম্মদউল্লাহ: ১৯৭২ ও ১৯৭৩ সালে সংসদীয় পদ্ধতিতে তারা যথাক্রমে অধ্যাদেশ ও গণপরিষদ/সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতির আসনে বসেন, যা জনগণের সরাসরি ভোট ছিল না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান (দ্বিতীয় মেয়াদ): ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সংবিধানের বিতর্কিত চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় পদ্ধতি বিলুপ্ত করে একদলীয় ‘বাকশাল’ ব্যবস্থা কায়েম করা হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমেই কোনো প্রকার সাধারণ নির্বাচন ছাড়াই শেখ মুজিবুর রহমান নিজেকে সরাসরি রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন।

খন্দকার মোশতাক আহমদ ও বিচারপতি এ. এস. এম. সায়েম: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক স্বঘোষিতভাবে এবং পরবর্তীতে ৩ নভেম্বরের অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে প্রধান বিচারপতি সায়েম সামরিক জান্তা কর্তৃক মনোনীত হয়ে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।

এই দীর্ঘ তালিকায় একমাত্র জিয়াউর রহমানই প্রথম ব্যক্তি, যিনি রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজের বৈধতা প্রমাণের জন্য কোনো অধ্যাদেশ বা একদলীয় ডিক্রির ওপর নির্ভর না করে সরাসরি জনগণের দরবারে ভোট ভিক্ষা করেছিলেন এবং বিজয়ী হয়েছিলেন।

একমাত্র ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা শাসক

স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইতিহাসে বহু ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী কিংবা রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন হয়েছেন। কিন্তু তাদের পুরো তালিকাটি যদি আমরা সমানে রাখি, তবে দেখব একমাত্র জিয়াউর রহমানই ছিলেন অস্ত্রহাতে সম্মুখসমরে যুদ্ধ করা প্রকৃত ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রনায়ক’।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাত্রিতে পাকিস্তানি বাহিনী যখন নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট থেকে মেজর জিয়ার কণ্ঠে বিদ্রোহের ঘোষণা (“We Revolt”) এবং পরবর্তীতে ২৬ ও ২৭শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা বাঙালি জাতিকে আলোর দিশা দেখিয়েছিল। তিনি কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, জীবন বাজি রেখে ১৯৭১ সালে ১ নম্বর সেক্টরের প্রথম কমান্ডার হিসেবে যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। পরবর্তীতে দেশের প্রথম নিয়মিত সশস্ত্র ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’ (Z-Force)-এর অধিনায়ক হিসেবে রণাঙ্গনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে এই অসামান্য ও অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তৎকালীন বাংলাদেশ সরকার তাঁকে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দেশের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মাননা “বীর উত্তম” খেতাবে ভূষিত করে।

বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক বা সামরিক শাসকেরা (যেমন: শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদ, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা বা পরবর্তী রাষ্ট্রপতিগণ) কেউই সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অস্ত্রহাতে লড়াই করা বা সামরিক ইউনিট কমান্ড করা খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার মহান স্থপতি ও অবিসংবাদিত রাজনৈতিক নেতা হলেও ১৯৭১ সালের পুরোটা সময় তিনি পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি ছিলেন, যার ফলে সরাসরি রণাঙ্গনে বীরত্ব প্রদর্শনের সুযোগ তাঁর ছিল না।

ইতিহাসের অমোঘ রায়

ঐতিহাসিক তথ্য, সাংবিধানিক উপাত্ত এবং সত্যের কষ্টিপাথরে এটি আজ প্রমাণিত যে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ইতিহাসে একাধারে প্রথম সরাসরি নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি এবং একমাত্র খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা শাসক। রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে ইতিহাসের এই অকাট্য সত্যকে স্বীকার করাই হবে আমাদের জাতীয় ইতিহাসের প্রতি প্রকৃত সুবিচার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category