আমরা ক্যারিয়ারের উন্নতি খুঁজি কেবল স্কিলে, নেটওয়ার্কিংয়ে অথবা নতুন ডিগ্রিতে। কিন্তু আপনার পেশাগত জীবনের সবচেয়ে বড় উত্থান বা পতনটা হয়তো লুকিয়ে আছে এমন এক জায়গায়, যেটা আপনি কখনো ক্যারিয়ারের অংশই ভাবেননি। সেটা হলো আপনার জীবনসঙ্গী কে – তার মধ্যে।
কথাটা শুনতে অবাক লাগলেও এর পেছনে শক্ত গবেষণা আছে। সাইকোলজিক্যাল সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, গবেষকরা প্রায় সাড়ে চার হাজার দম্পতি নিয়ে পাঁচ বছর ধরে গবেষণা করেছেন। যেটার ফলাফল চমকে দেওয়ার মতো। দেখা গেল, যার জীবনসঙ্গী বেশি ডিসিপ্লিনড ও নির্ভরযোগ্য, তার আয় বেশি বাড়ে, কাজে সন্তুষ্টি বেশি থাকে, আর পদোন্নতিও বেশি হয়।
কেন এমন হয়? কারণ আমরা অজান্তেই একে অপরের অভ্যাস, দৃষ্টিভঙ্গি, এমনকি কাজের ধরন শুষে নিই। একজন গোছানো সঙ্গী ঘরে একটা স্থির ভিত্তি তৈরি করেন, মনের বোঝা কমান, ফলে বাইরের যুদ্ধটা আপনি অনেক হালকা মনে এগিয়ে নিতে পারেন।
মানুষ সাধারণত সঙ্গী বাছে চারটি জিনিস দেখে, সম্পদ, বংশ, রূপ আর দ্বীন। এ ব্যাপারে নবিজী ﷺ বলেছেন – فَاظْفَرْ بِذَاتِ الدِّينِ تَرِبَتْ يَدَاكَ অর্থাৎ, তুমি দ্বীনদারকে বেছে নিয়ে সফল হও। – সহিহ বুখারি, হাদিস ৫০৯০
কারণ দ্বীনই মানুষের ভেতরে সেই শৃঙ্খলা ও নির্ভরযোগ্যতা গড়ে তোলে, আধুনিক গবেষণা আজ যেটাকে সাফল্যের চাবি বলছে।
এর সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রমাণ খাদিজা রা.। নবুয়তের শুরুতে যখন নবী ﷺ হেরা থেকে কাঁপতে কাঁপতে ফিরেছিলেন, তখন এই নির্ভরযোগ্য, প্রজ্ঞাবান নারীই তাঁকে আশ্রয় দিয়েছিলেন, সাহস জুগিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন নবীজির জীবনের সেই স্থির ভিত্তি, যার ওপর দাঁড়িয়ে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মিশন শুরু হয়েছিল।
তাই আপনি যদি সঙ্গী খুঁজছেন, রূপ আর বিত্তের চেয়ে আগে দেখুন মানুষটা দ্বীনদার, গোছানো ও নির্ভরযোগ্য কিনা, কারণ আপনি একজন জীবনসঙ্গী নয়, ভবিষ্যতের একজন অংশীদার বাছছেন। আর যদি আপনি ইতিমধ্যে সম্পর্কে থাকেন, তাহলে নিজেই সেই মানুষটা হয়ে উঠুন। শুধু নিজের সাফল্যের জন্য নয়, আপনার সঙ্গীর সাফল্যের জন্যও।