ঢাকা, ১৩ জুন ২০২৬ (শনিবার):
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। শনিবার গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরে মোট ৩ লাখ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে উদ্বোধনী দিনে ডিএসসিসির ১০টি এলাকায় ৫০০টি গাছ রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, “১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে অস্ত্র হাতে শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, দেশ গড়ার এই দ্বিতীয় পর্যায়ে আমাদের লড়াই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এবং ঢাকাকে বাঁচানোর লড়াই। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে আমাদের অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং রোপণকৃত গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।”
পাঁচ বছরে জাতীয়ভাবে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এর কোনো বিকল্প নেই।”
ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমাগত নিচে নেমে যাওয়া এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রা বৃদ্ধির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, “কংক্রিটের আধিক্যের কারণে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে যেতে পারছে না। তাই নতুন ভবন নির্মাণের সময় কিছু অংশ কংক্রিটমুক্ত রেখে ঘাস বা দুর্বা সংরক্ষণের জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
শহরের সবুজায়ন নিশ্চিত করতে ছাদ কৃষকদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, ঢাকায় যারা ছাদ কৃষি করছেন, তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সেরা ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ছাদ কৃষকদের হোল্ডিং ট্যাক্সে রিবেট বা কর ছাড় দেওয়ার বিষয়েও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিএসসিসির জিরো ওয়েস্ট কার্যক্রমের আওতায় ইতোমধ্যে সড়ক বিভাজক ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে ১৮ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়া ওসমানী উদ্যানে একটি কেন্দ্রীয় নার্সারি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নাগরিকদের মাঝে বিনামূল্যে গাছ বিতরণ করা হবে।
নগরীর পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, “যেসব পার্ক ও উন্মুক্ত স্থান ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো বাণিজ্যিক বা অস্থায়ী স্থাপনা রাখা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ করলে লিজ বাতিল করা হবে। এছাড়া অবৈধ দখল, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং হকার নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০টি অঞ্চলে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
সবশেষে তিনি ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য মেগাসিটিতে রূপান্তর করতে নগরবাসী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।