সংবাদ শিরোনাম
‎যশোরে বিজিবির অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল আটক সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলার অভিযোগ, নিন্দা জানিয়েছে সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূলে বড় পদক্ষেপ: যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কতকিছুর হাট আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন মহলের শোক আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি। হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা” নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করলেই ডিজিটাল মামলা : ডিএমপি কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের বড় অভিযান পৌনে ৭ কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসি কষ্ট করবে এটা হতে পারে না-ডিএনসিসি প্রশাসক

হবিগঞ্জের সংবাদ সম্মেলন করে বিষয়টি স্পষ্ট করল হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীরা ॥ মেয়র সেলিমের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ

admin / ২৪৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১ নভেম্বর, ২০২২

24

মো: ইফাজ খাঁ হবিগঞ্জ  প্রতিনিধি: নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

 

হবিগঞ্জ পৌর মহাশ্মশানঘাটের সামনে নির্মাণাধীন পৌর হকার্স মার্কেট ভরণ নিয়ে হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আতাউর রহমান সেলিম ও হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে ‘দৈনিক আমার হবিগঞ্জ’ পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছে হকার্স মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা ৬ টায় হবিগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়াতনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে হকার্স মার্কেট নিয়ে যাবতীয় বিষয় স্পষ্ট করেন তারা। লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়, ৩৬ জন হকারের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করেছেন মেয়র আতাউর রহমান সেলিম। এ তথ্য মিথ্যা। প্রকৃত পক্ষে ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব জি কে গউছ-এর সভাপতিত্বে পৌর পরিষদের মাসিক সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, শ্মশানঘাট সংলগ্ন পৌরসভার নিজস্ব ভূমিতে মার্কেট নির্মাণ করা হবে। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরবর্তীতে হবিগঞ্জ পৌরসভার প্রস্তাবিত হকার্স মার্কেটে দোকান বরাদ্দের জন্য ২০১৩ সালে সিকিউরিটি বাবদ আমরা ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা পৌরসভার তহবিলে প্রদান করি। মূলত, তখন থেকেই পৌরসভার তহবিলে নিয়ম মাফিক অর্থ জমা দেয়ার প্রতিক্রিয়া শুরু হয়

 

পরবর্তীতে বিভিন্ন জটিলতার কারনে এ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হয়। বর্তমান মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের নেতৃত্বে পৌর পরিষদ এ ব্যাপারে নতুন ভাবে আমাদের সাথে কয়েকদফা আলোচনা করেন। আলোচনার ভিত্তিতে পূর্বের তালিকাভূক্ত ২১ জন হকার জনপ্রতি ২ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা করে পৌরসভার তহবিলে ৩ কিস্তিতে জমা দিবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা তালিকাভুক্ত ২১ জন ব্যবসায়ী ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে পৌরসভার তহবিলে টাকা জমা দেই। আমাদের সুবিধার জন্য বিভিন্ন কিস্তিতে টাকা জমা দেয়ার সুযোগ দেন পৌরকর্তৃপক্ষ। আমাদের ২১ জনের সবাই আমরা এখনো নির্ধারিত ২ লাখ ১৫ হাজার টাকা দিতে পারিনি। কারো বেশী জমা হয়েছে, কারো কম জমা হয়েছে। যে যার সাধ্যমতো টাকা জমা দিচ্ছেন। তবে কাউকেই ২ লাখ ১৫ হাজার টাকার উপরে জমা দিতে হবে না। বর্তমান পৌর পরিষদের সময়ে পৌরসভার তহবিলে জমা হয়েছে ৩১ লক্ষ ৭২ হাজার ৩শ টাকা। বাকী ১৩ লক্ষ ৪২ হাজার ৭শ টাকা পৌরসভার পাওনা রয়েছে। অথচ সংবাদে বলা হয়েছে জন প্রতি ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা নিয়েছেন মেয়র আতাউর রহমান সেলিম। যা সম্পূর্ন মিথ্যা ও মানহানিকর। ৩০ তারিখের পত্রিকায় বলা হয় মেয়র ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করেছেন। পরদিন অর্থাৎ ৩১ তারিখের পত্রিকায় বলা হয় ১ কোটি ২৬ লাখ টাকা আদায় করেছেন। অতএব, তাদের দুটি সংবাদেই রয়েছে অসঙ্গতি ও পরস্পরবিরোধীতা। প্রকৃতপক্ষে আমরা নির্ধারিত টাকা যথাযথ নিয়ম মেনে ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে অফিসের তহবিলে জমা দিয়েছি। এ টাকা কোন ব্যক্তি নিচ্ছেন না বরং এটি নিয়ম মাফিক অফিসে জমা হচ্ছে। কিন্তু সংবাদে বলা হয়েছে আড়াই লক্ষ টাকা যাবে পৌরসভার ফান্ডে বাকি এক লক্ষ টাকা মেয়রের পকেটে। এ ধরনের জলজ্যান্ত মিথ্যা সংবাদ পড়ে আমরা হতভম্ব হয়েছি। প্রকৃতপক্ষে একটি টাকাও মোর ব্যক্তিগতভাবে গ্রহন করেননি।

 

তাহলে কেন এই মিথ্যাচার। আমরা মনেকরি মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের প্রতি ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আক্রোশ থেকে কেউ এ জাতীয় মিথ্যা তথ্য পত্রিকায় সরবরাহ করেছে। পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় পৌরসভার রশিদের যে ছবি ছাপানো হয়েছে সেটি ভূয়া ও হাস্যকর। কারন আমরা হলফ করে বলতে পারি এক রশিদে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা কখনো কোন ব্যবসায়ী জনা দেননি। নিশ্চিতভাবে আমরা বলতে পারি যে, এই রশিদ ভূয়া। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ যাচাই বাচাই না করে কিভাবে এমন একটি ভুয়া রশিদের ছবি ছাপাতে পারে তা আমাদের বোধগম্য হচ্ছে না। লিখিত বক্তব্যে আরো উল্লেখ করা হয়, পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর হকার ব্যবসায়ীদের মেয়র শাসিয়েছেন বলে যে কথা প্রকাশ করা হয়েছে সেটা মনগড়া। প্রকৃতপক্ষে মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের সাথে যেভাবে আমাদের সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রয়েছে তেমনি সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কও রয়েছে। পরিশেষ আমরা বলতে চাই, আমরা ক্ষদ্র ব্যবসায় দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় দিনাতিপাত করছি। হবিগঞ্জ পৌরসভা ২০১০ সালে আমাদের পূনর্বাসনের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহন করে। ২০১২ সালে প্রস্তাবিত মার্কেটে আমাদের পূনর্বাসনের জন্য হবিগঞ্জ পৌরসভা দাপ্তরিকভাবে কাজ শুরু করে। মধ্যে এ প্রক্রিয়া বিভিন্ন কারনে বিলম্বিত হয়। সর্বশেষ হবিগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র আতাউর রহমান সেলিম আমাদের নতুন মার্কেটে পূনর্বাসণ করার প্রক্রিয়া বেগবান করেন। সর্বমহলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতেই মেয়রের নেতৃত্বে পৌরপরিষদ শ্মশানঘাটের সামনের জমিতে আমাদের জন্য হকার্স মার্কেট নির্মাণের উদ্যোগ নেন। আমরা বিশ্বাস করি একদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনের অতি মূল্যবান জমিকে পৌরসভার স্বার্থে যথাযথ ব্যবহার করা অন্যদিকে আমাদের হকার্স ব্যবসায়ীদের ব্যবসার জন্য সুন্দর একটি উদ্যোগ গ্রহন করা ছিল মেয়রের উদ্দেশ্যে। এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। পাশাপাশি, শ্মশানঘাটের সামনে নির্মাণাধীন হকার্স মার্কেটকে নিয়ে মেয়র আতাউর রহমান সেলিমের নামে যে অপপ্রচার করা হচ্ছে তার নিন্দা জানাই। আমরা মনে করি এ অপপ্রচার মেয়রের ভাবমূর্তি নষ্ট করা, পৌর পরিষদকে বিতর্কিত করা এবং আমাদের সাথে মেয়র তথা পৌরসভার ভুল বোঝাঝুঝি সৃষ্টি করার একটি অপপ্রয়াস মাত্র। আশাকরি আমাদের এ বিবৃতির মাধ্যমে এ নিয়ে সকল বিভ্রান্তি দুর হবে। সংবাদ সম্মেলনে পৌর হকার্স মার্কেট কমিটির সভাপতি মোঃ মহারাজ মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফজলু মিয়াসহ সকল ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category