মোঃ শহিদুল ইসলাম বিশেষ সংবাদদাতাঃ
দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল ধারায় ফিরিয়ে আনতে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “মানুষের প্রত্যাশা অনেক। সেই প্রত্যাশা পূরণ করাই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। পর্যায়ক্রমে সমস্যাগুলোর সমাধান করে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল পথে এগিয়ে নিতে চাই।”
বর্তমানে দেশের অর্থনীতি একাধিক চাপে রয়েছে। বেসরকারি বিনিয়োগের গতি কমে যাওয়া, কর্মসংস্থানের সংকোচন, মূল্যস্ফীতির প্রভাব এবং ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করেছে। পাশাপাশি তারল্য সংকট ও পুঁজিবাজারে আস্থার ঘাটতিও আলোচনায় রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, প্রথম ধাপে সামষ্টিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তৃতীয় ধাপে টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও অংশগ্রহণমূলক কাঠামো জোরদার করা হবে। এ বিষয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর নীতিগত দিকনির্দেশনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতা, নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে প্রভাব ফেলেছে। শিল্প খাতে নতুন বিনিয়োগ কমেছে এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে কিছু প্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এর প্রভাব পড়েছে কর্মসংস্থানে।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি ও তারল্য ব্যবস্থাপনা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে
বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠন এর প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নতুন অর্থমন্ত্রী একসময় চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
রাজনৈতিক জীবনে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৯১ সালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। রপ্তানি খাত সম্প্রসারণ ও বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা আলোচিত ছিল।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে অর্থনীতি ব্যবস্থাপনা সহজ হবে না। তবে কার্যকর নীতি বাস্তবায়ন এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া গেলে স্থিতিশীলতা অর্জন সম্ভব।