বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন
মঙ্গলবার তারিখ: ৩১ মার্চ ২০২৬ খ্রি:
উত্তরার বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট: প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ
রাজধানীর উত্তরাঞ্চল—তুরাগ, উত্তরা, বিমানবন্দর, উত্তরখান, দক্ষিণখান ও খিলক্ষেত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি সিন্ডিকেট। স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় পরিচালিত এসব সিন্ডিকেট প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা চাঁদা আদায় করছে।
চাঁদাবাজির ধরন: তিন স্তরের সংগঠিত কাঠামো
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চাঁদাবাজি কার্যক্রমকে সুসংগঠিতভাবে তিনটি ধাপে ভাগ করা হয়েছে—প্রতিদিনের চাঁদাবাজি:
দোকানপাট, হকার, কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, পরিবহন স্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও ফুটওভার ব্রিজসহ বিভিন্ন অস্থায়ী ব্যবসা থেকে প্রতিদিন নির্ধারিত হারে টাকা আদায় করা হয়।
সাপ্তাহিক চাঁদাবাজি:
মার্কেট, গ্যারেজ, ও নির্মাণাধীন প্রকল্প থেকে সপ্তাহভিত্তিক চাঁদা নেওয়া হয়।
মাসিক চাঁদাবাজি:
বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়। একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “চাঁদা না দিলে ব্যবসা চালানোই অসম্ভব হয়ে পড়ে। প্রতিনিয়ত ভয় নিয়ে কাজ করতে হয়।” রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দৌরাত্ম্য
তদন্তে জানা গেছে, অনেক চাঁদাবাজ নিজেকে ক্ষমতাসীন বা বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী পরিচয় দিয়ে প্রভাব খাটায়। পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা নিজেদের পরিচয় পরিবর্তন করে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ,
“যে দল ক্ষমতায় থাকে, চাঁদাবাজরা নিজেদের সেই দলের লোক পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করে।”
দেশজুড়ে বাড়ছে চাঁদাবাজি, উদ্বেগ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে চাঁদাবাজির প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও “৫০% বৃদ্ধি” সংক্রান্ত দাবির সুনির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান এখনও নিশ্চিত নয়, তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা পরিস্থিতির অবনতি নির্দেশ করছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা ও পরিকল্পনা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায় চিহ্নিত চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান পরিচালনার নির্দেশনা রয়েছে বড় সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে সমন্বিত অভিযান পরিকল্পনায় রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকেও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।বাস্তব চিত্র: ভয়, নীরবতা ও অনিশ্চয়তা
মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভুক্তভোগী নিরাপত্তার অভাবে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক। বিভিন্ন এলাকায় অভিযোগ রয়েছে
চাঁদা না দিলে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা নির্মাণ কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করে দেওয়া শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি
এছাড়া অতীতে চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট করে।
গণমাধ্যমের ভূমিকা: তথ্যই পারে সত্য উন্মোচন করতে দৈনিক ঢাকার কণ্ঠ পত্রিকার পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার ভুক্তভোগী, সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছে আহ্বান জানানো হচ্ছে—বিশ্বস্ত তথ্য, ছবি বা প্রমাণ আমাদের কাছে পাঠিয়ে সত্য উদঘাটনে সহযোগিতা করুন।
চাঁদাবাজি এখন আর বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়; এটি ধীরে ধীরে একটি সংগঠিত অর্থনৈতিক সন্ত্রাসে রূপ নিচ্ছে। দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে রাজধানীর উত্তরাঞ্চল পুরোপুরি সিন্ডিকেট নির্ভর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।