রাজধানী বুধবার তারিখ মার্চ ২০২৬ ইং দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য চীনা সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ঈদ সহায়তা বিতরণ কর্মসূচিকে ঘিরে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের দাবি, এই সহায়তা বিতরণের দায়িত্ব পাওয়া সংগঠন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রকৃত সুবিধাভোগীদের পরিবর্তে নিজেদের নেতাকর্মীদের মধ্যেই অধিকাংশ সহায়তা বণ্টন করেছে।
অভিযোগে বলা হয়, চীনের পক্ষ থেকে প্রেরিত এই সহায়তা মূলত দরিদ্র ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দ ছিল। তবে বাস্তবে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দুস্থদের বাদ দিয়ে সংগঠনটির ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি-ভিডিওতে দেখা যায়, তুলনামূলক সচ্ছল ব্যক্তিরাই খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেট সংগ্রহ করছেন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “যারা প্রকৃত গরিব, তারা অনেকেই এই সহায়তা পাননি। বরং রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে তালিকা করা হয়েছে।” তারা আরও দাবি করেন, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং বিষয়টি তদন্ত করা প্রয়োজন।
তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগ অস্বীকার বা ব্যাখ্যা জানাতে সংগঠনটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বিদেশি সহায়তা—বিশেষ করে চীনের মতো রাষ্ট্রের অর্থায়ন—যদি সঠিকভাবে বণ্টন না হয়, তবে তা শুধু অনিয়মই নয়, বরং আন্তর্জাতিক আস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
দুস্থ মানুষের জন্য প্রাপ্ত সহায়তা সঠিকভাবে বিতরণ নিশ্চিত করা না গেলে সেই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয়। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।