মোঃনাজমুল হোসেন বিজয়। বরগুনা জেলা প্রতিনিধিঃ
বরগুনার তালতলীতে যৌনপল্লী থেকে একাধিক ধর্ষণের শিকার লামিয়া আক্তারের বাস্তব ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে মারামারির ঘটনার মামলা নিয়েছে তালতলী থানা পুলিশ। বাদির বক্তব্যের সাথে মামলার কোনো মিল পাওয়া যায়নি। এছাড়াও মামলা এজাহারের পূর্বে এবাদি তার বক্তব্যে জানিয়েছেন মামলা নেয়ার কথা বলে তালতলী থানা পুলিশ তাদেরকে একাধিকবার ঘুরাচ্ছে। সরকারি আইন থাকলেও তাদের ঘটনার ক্ষেত্রে প্রয়োগে কার্পণ্যতা দেখা দিচ্ছে।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বাসাবাড়িতে কাজ দেয়ার কথা বলে লামিয়া আক্তার (১৭) নামক এক কিশোরীকে পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের কলারং গ্রামের কালাম হাওলাদারের বাড়ীতে নিয়ে যায় বাড়ীর পাশের বকুল মুন্সির গং। কালাম ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে লামিয়াকে নিয়ে বরিশাল যায়। পরক্ষণে লামিয়াকে বরিশালের একটি যৌনপল্লীতে নিয়ে গেলে লামিয়া সেখানে যৌনকাজে লিপ্ত না হতে চাইলে তাকে বিভিন্নভাবে হুমকিধামকি দিয়ে দীর্ঘ ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লাগাতার ধর্ষণ করে। হাত-পা ধরার পরে সুকৌশলে গ্রামে ফিরলে বিষয়টি বকুল মুন্সির মেয়ে মানছুরা (১৮) জানার পরে লামিয়াকে ব্যারাজালে বন্দী করে ঘরের ভিতর আটকে রাখে। লামিয়া বকুল মুন্সির বাড়িতে আছে এমন খবর পেয়ে তার মা আখিনুর (৩৫) সহ বেশ কয়েকজন লোকে লামিয়াকে উদ্ধার করতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে লামিয়াকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্মরত চিকিৎসক পটুয়াখালী নেয়ার পরামর্শ দিলে লামিয়াকে পটুয়াখালী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ভর্তির জন্য বল্লে টাকার অভাবে লামিয়াকে পরিপূর্ণ চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি। তবে এ ঘটনায় তালতলী থানা পুলিশ গড়িমসি করছে এবং বাস্তব ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে এ সংবাদপত্রে উল্লেখিত ঘটনাকে এরিয়ে গিয়ে ১৪৩/৩২৩/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/৩৫৪ ৩০৬(২) ধারায় মামলা নেয়।
লামিয়ার মা আখিনুর এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্বামী সন্তান সহ আমাদেরকে জিজ্ঞেস করে না তাই আমি মানুষের বাড়ীতে ভিক্ষা-বিত্তি করে সন্তানদের বড় করতেছি। যারা আমার সন্তানের সর্বনাশ করেছে আমি তাদের বিচার চাই।
তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, ওখানে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্ত তালতলী থানায় একটি এজাহার মামলা হয়েছে।