নেত্রকোণায় ১১.১১.২০২২ ইং আগাম জাতের রোপা আমন ধান কাটা ও মাড়াই শুরু হয়েছে। আগাম জাতের ধানের সোনালী শীষে ভরে গেছে কৃষকের ক্ষেত। বাতাসে ঢেউ তুলছে সোনালী ধানের শীষ। ধান কাটা-মাড়াই কাজে কৃষকের পাশাপাশি ব্যস্ততা বেড়েছে দিন মজুরদেরও। নেত্রকোণা জেলা দেশের কয়েকটি খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও ধান উদ্বৃত্ত জেলার মধ্যে অন্যতম। জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমের শুরুতে অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে আমন চারা লাগাতে দেরি হলেও পরবর্তী সময়ে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।
এ ছাড়াও সংসারের খোরাকী, গরুর খাদ্য হিসেবে খড়ের চাহিদা বৃদ্ধি ও ধানের দাম ভালো থাকায় লাভের স্বপ্ন দেখছেন চাষীরা। নেত্রকোণা সদরের রাজেন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক বাচ্চু মিয়া জানান, আগাম জাতের হাইব্রীড ধান কাটা শুরু করে দিয়েছে কৃষক। এসব ধানের ফলনও ভালো পাচ্ছেন। কেন্দুয়া উপজেলার দুল্লী গ্রামের কৃষক আবুল মিয়া জানান, আগাম ধান প্রতি কাঠায় ৩/৪ মণ করে ফলন পাচ্ছি। প্রতি মণ ধান ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকায় বিক্রি করতে পারছি। এতে তারা খুশি। তবে কৃষকদের দাবি, নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম যে ভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে ধানের দাম বাড়ানো উচিত বলে মনে করছি। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আগাম জাতের আমন ধান কেটে ওই জমিতে বাড়তি ফসল হিসাবে সরিষা চাষ, আলু, বেগুনসহ শীতকালীন সবজি আবাদ করতে পারবে কৃষকরা। যা পরবর্তী সময়ে বোরো ধান চাষের অর্থের জোগান হয় কৃষকের। তাই প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চাষ।নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫ হেক্টর জমি। এই পরিমাণ জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন। তবে কৃষকদের দাবি, নিত্য প্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম যে ভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে ধানের দাম বাড়ানো উচিত বলে মনে করছি। মৌসুমে শুরুতে খাদ্যের জেলা নেত্রকোনায় আগাম জাতের আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়ে গেছে।বারহাট্টা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, দেশের খাদ্য উৎপাদিত জেলা হিসেবে পরিচিত নেত্রকোনা এবারে কোন ধরনের বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় বাম্পার আমন ধান ফলন অর্জিত হয়েছে। বাংলা কার্তিক মাসের ১৫ তারিখ থেকে আমন ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়ে গেছে। তিনি বুধবার এবং বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার সাহতা, বারহাট্টা সদর, বাউসী বাজার এলাকার আগাম জাতের আমন ধান কর্তনের বিষয় সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। এ সময় কৃষকদের সাথে কথা বলে তিনি আশস্ত হয়েছেন এবারে ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকেরা উৎফুল্ল প্রকাশ করেছেন। আগাম জাতের ধান কাটা মাড়াই শুরু হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের সরবরাহকৃত ধান কাটা ও মাড়াই মেশিন দিয়ে ধান কর্তন ও মাড়াইয়ের কাজ করতে কৃষকদের উৎসহ দেয়া হচ্ছে। অত্যাধুনিক মেশিনে জমির ক্ষেতেই ধান কাটা ও মাড়াই ওই মেশিন দ্বারা একই সাথে সম্পন্ন হওয়ায় ধানের মান ভালো হচ্ছে। ওই ধান বাজারে চাহিদা বেশি রয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি জানান, দেশের শস্য ভা-ার বলা হয় এই জেলাকে। দেশের সিংহভাগ ধান উৎপাদন হয়ে থাকে এই জেলায়। চলতি বছর আমন ধানের ভাল ফলন হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠে শোভা পাচ্ছে পাকা সোনালি ধান। জেলার অনেক জায়গায় ধান কাটায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। জেলার ১০ উপজেলায় শুরু হয়েছে আমন ধান কাটা ও মাড়াই। সে সব জমিতে নেমে পড়েছেন শ্রমিক ধান কাটার জন্য। শ্রমিকরা ধান কেটে তা মাঠে ৫ থেকে ৭ দিন শুকানোর জন্য ফেলে রাখছে। পরে সেগুলো আঁটি বেঁধে গৃহস্থের গোলায় তুলে তা মাড়াই করে দিচ্ছেন। কাটা থেকে মাড়াই পর্যন্ত শ্রমিকরা ৫০ শতক প্রতি নিচ্ছেন ৩ হাজার ৩শ’ থেকে ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। গত ইরি বোরো মৌসুমে ধানের ফলন ভাল ও দাম মনোঃপুত হওয়ায়, চলতি আমন মৌসুমে কৃষকরা বেশি করে আমন ধান চাষ করেছে। নতুন আমন ধান ১ হাজার ৮০ টাকা মণ দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ইরি ধানের মতো আমন ধানের ফলন ভাল হয়েছে, তাই কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।
তিনি জানান, এবারে আমন মৌসুমে উন্নতমানের আমন ধান বীজ, যথা সময়ে ধান ক্ষেত্রে সার প্রয়োগ, সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ৫০ শতক জমিতে ৩৫ থেকে ৪০ মণ ধান হয়েছে। সাহতা গ্রামের কৃষক ডেন্ডু মিয়া বলেন, এ বছর ধান আবাদ করে আমরা লাভবান হয়েছি। এক দিকে ধানের ফলন ভাল হয়েছে, অপরদিকে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি। এবার উৎপাদিত ধান জেলার চাহিদা র্পূরণ করে জেলা বাহিরে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
জেলা কৃষি অধিদপ্তরের সুত্রটি জানায়, বিগত সময় জেলায় উৎপাদিত ধানের অর্ধেক এই জেলার খাদ্যের চাহিদা পূরণ করত। এবারে গত ইরি-বোরো এবং চলতি আমন মৌসুমে বাম্পার ফলন উৎপাদিত হওয়ায় অর্ধেকের বেশি উৎপাদিত চাল দেশের অন্য জেলায় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আগাম জাতের আমন ধান কেটে ওই জমিতে বাড়তি ফসল হিসাবে সরিষা চাষ, আলু, বেগুনসহ শীতকালীন সবজি আবাদ করতে পারবে কৃষকরা। যা পরবর্তী সময়ে বোরো ধান চাষের অর্থের জোগান হয় কৃষকের। তাই প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে আগাম জাতের রোপা আমন ধানের চাষ। নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭৫ হেক্টর জমি। এই পরিমাণ জমিতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫৯৬ মেট্রিক টন।
নেত্রকোণা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন জেলায় আমন ধানের উৎপাদন ভালো হচ্ছে। আগাম জাতের ধান কেটে একই জমিতে সরিষা, আলু ও শাক সবজি চাষ করায় কৃষকদের জন্য আর্শ্বিাদ বয়ে নিয়ে আসবে। আবার সরিষা ও শাক-সবজির আবাদ ঘরে উঠিয়ে একই জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করা যাবে।