ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬:
বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপি’র সঙ্গে দি ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি)-এর প্রতিনিধিবৃন্দের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর মিনি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দেশের নিরীক্ষা খাতের সার্বিক অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আইসিএবি’র উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং খাতের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “জাতীয় সম্পদ সুরক্ষায় নিরীক্ষা খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরীক্ষার মান বজায় রাখতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও সচেতন থাকবে।”
এসময় আইসিএবি প্রতিনিধিবৃন্দ নিরীক্ষা খাতে কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টদের (CMA) নিরীক্ষার অধিকার দেওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের নিরীক্ষা কার্যক্রম আইসিএবি’র মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে আসছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও শক্ত আইনি কাঠামো ছাড়া নিরীক্ষার পরিধি বাড়ানো হলে এ খাতের প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের অর্থ আইনে CMA-দের নিরীক্ষা করার অধিকার দেওয়ার প্রস্তাব উত্থাপিত হলেও আইসিএবি’র আপত্তির কারণে তা চূড়ান্তভাবে গৃহীত হয়নি। তবে একই ধরনের প্রস্তাব ২০২৬ সালের সংশ্লিষ্ট আইনে পুনরায় বিবেচনায় আসতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে বিষয়টি নিয়ে সরকারকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়।
সাক্ষাতে আইসিএবি’র প্রতিনিধিদলের মধ্যে ভাইস প্রেসিডেন্ট সুরাইয়া জান্নাত খান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ রোকনুজ্জামান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মনিরুজ্জামান এবং প্রধান নির্বাহী শুভাশিস বসু উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, বৈঠককালে আইসিএবি প্রতিনিধিবৃন্দ মন্ত্রীর কাছে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সংবলিত একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (ICMAB)-এর বর্তমান আইন অনুযায়ী নিরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার বিধিগত অনুমোদন নেই এবং ২০১৮ সালের সংশ্লিষ্ট আইনেও এ সীমাবদ্ধতা বহাল রয়েছে। এছাড়া আইসিএবি’র জন্য আর্থিক বরাদ্দ বৃদ্ধির বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করা হয়।