দীর্ঘদিন শূন্য থাকা পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেলেন মিজ শারমিন সুলতানা; সিন্ডিকেটের কোটি টাকার তদবির ব্যর্থ, স্বচ্ছতার দাবিতে সোচ্চার কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুধী সমাজ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) গুরুত্বপূর্ণ ‘জেনারেল ম্যানেজার (জিএম)’ পদে অবশেষে অতিরিক্ত দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে উপসচিব (টিভি-১) মিজ শারমিন সুলতানাকে তার বর্তমান দায়িত্বের পাশাপাশি বিটিভির জিএম হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা অফিস আদেশ (স্মারক নম্বর: ১৫.০০.০০০০.০১৪.১৮.০১০.২৫-৭১৫) অনুযায়ী, এই পদায়নের মাধ্যমে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শূন্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ এই পদে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে তদবিরের রাজনীতি ব্যর্থ সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, গত কয়েক মাস ধরে এই পদটি ঘিরে প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক তদবির চলছিল। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে বিভিন্ন মহলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি। মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্তে সেই তদবির চক্র আপাতত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আন্দোলনকারী জোটের প্রতিক্রিয়া বিটিভির অভ্যন্তরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সক্রিয় ‘দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনকারী সংগঠনসমূহের জোট’ নতুন নিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছে। জোটের নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা ব্যক্তি নয়, কাজের পরিবর্তন দেখতে চাই। বিটিভির প্রতিটি স্তরে যে অনিয়ম ও দুর্নীতি দীর্ঘদিন ধরে জমাট বেঁধেছে, তা দূর করাই হবে নতুন জিএম-এর প্রধান চ্যালেঞ্জ।”
ঝুলে থাকা মামলার নিষ্পত্তির দাবি বিটিভির অভ্যন্তরে বহু বিভাগীয় মামলা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রয়েছে। সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমা পার হলেও এসব মামলার কোনো অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন জিএম দ্রুত এসব ফাইল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেবেন।
দুদকের তদন্তেও স্থবিরতা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক তদন্তে প্রমাণিত অভিযোগের বেশ কিছু ফাইলও দীর্ঘদিন ধরে বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিবেদন কার্যকর না করে ‘ধামাচাপা’ দিয়ে রাখা হয়েছে। নতুন প্রশাসনের অধীনে এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বদলি ও বরখাস্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা
তদন্তাধীন অনেক কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত বা বিভিন্ন দূরবর্তী স্টেশনে সংযুক্ত করা হলেও, তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় প্রশাসনিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন সুধী মহল।
গুরুত্বপূর্ণ পদ, বড় চ্যালেঞ্জ বিটিভির জিএম পদটি বরাবরই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক অবস্থান। কেনাকাটা, আউটসোর্সিং, শিল্পী সম্মানীসহ বিভিন্ন আর্থিক খাতে এই পদের প্রভাব থাকায় এটি নানা সময় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন জিএম-এর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে প্রতিষ্ঠানটির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করে আস্থা ফিরিয়ে আনা।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের হারানো সুনাম পুনরুদ্ধার এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়ে তুলতে মিজ শারমিন সুলতানা কতটা সফল হন, এখন সেটিই দেখার বিষয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি এখন তার প্রথম দিককার পদক্ষেপের দিকে।