ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) মেট্রো সার্কেল-১ অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মালিকানা পরিবর্তন শাখার ইন্সপেক্টর আফজাল হোসেন-এর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গাড়ির মালিকদের দাবি, তার কর্মকাণ্ডে অফিসটি যেন দুর্নীতির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
অভিযোগকারীরা জানান, পূর্বে মোটরযান পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার অধীনে “দুপুরে ফেল–সন্ধ্যায় পাশ” নামে একটি অনিয়মিত পদ্ধতি চালু ছিল। এতে অদক্ষ ব্যক্তিরাও সহজেই ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতেন, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে তারা মনে করেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, লাইসেন্স পেতে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হতো। এছাড়া মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রেও নানা অজুহাতে গ্রাহকদের হয়রানি করা হয়। তবে দালাল চক্রের মাধ্যমে গেলে একই কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অফিসটির ভেতরে ও আশপাশে একটি সক্রিয় দালাল সিন্ডিকেট কাজ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তারা বিভিন্ন দোকান বা নির্দিষ্ট স্থানে বসে অনলাইনে কাগজপত্র আদান-প্রদান করে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারির কারণে বর্তমানে তারা কিছুটা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ঘুষের টাকায় ঢাকায় একাধিক বাড়ি/ফ্ল্যাট ও ব্যক্তিগত গাড়ির মালিক হয়েছেন। চাঁদপুরে কর্মরত থাকাকালেও তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ছিল বলে সূত্র জানিয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অভিযোগগুলো যাচাই করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ইন্সপেক্টর আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলে পরে আর সাড়া দেননি।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।