মনির হোসেন জীবন, বিশেষ প্রতিবেদন।
রাজধানীর দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে অপহরণ মামলার মূলহোতাসহ সংঘবদ্ধ মুক্তিপণ আদায়কারী সংঘবদ্ধ চক্রের এক নারীসহ চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১)।
এসময় অপহরণকারীদের কবল থেকে অপহৃত ভিকটিম আব্দুর রহমান (৪৫)কে উদ্ধার করা হয়েছে। ভিকটিম গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার সাহাজ উদ্দীন সরকার রোড মৃত বাহার আলী বেপারীনের পুত্র। অপহৃত ভিকটিম আব্দুর রহমান ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজ ক্লিনিয়ার সুপার ভাইজার হিসেবে চাকুরি করতো।
র্যাব জানিয়েছে, আটককৃত মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের ৪ সদস্যরা হলো- মোঃ ইকবাল মাহবুব শুভ (২৮), মোছাঃ শিউলি আক্তার (৪০), আবুল হাসেম (৪৯), এবং মোঃ হাবিব সরকার (৫৫)। এসময় তাদের নিকট থেকে ছোটবড় ৫টি মোবাইল ফোন ও নগর টাকা উদ্ধার মূলে জব্দ করেছে এলিট ফোর্স র্যাব।
গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর দক্ষিণখান থানার দক্ষিণ পূর্ব গাওয়াইর, কলিল বক্স রোড, বাড়ি নং-৭৭৭’তে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
আজ বৃহস্পতিবার র্যাব-১, উত্তরার (মিডিয়া অফিসার) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোঃ রাাকিব হাসান এ প্রতিবেদককে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজ ক্লিনিয়ার সুপারভাইজার হিসেবে চাকুরি করে আব্দুর রহমান (৪৫)। ভিকটিম প্রতিদিনের ন্যায় গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল অনুমানিক ৭টার সময় বাসা থেকে বের হয়ে কর্মস্থলে যান। পরবর্তীতে একই দিন 
সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২৩ মিনিটের সময় অজ্ঞাতনামা আসামীদের মোবাইল নাম্বার থেকে ভিকটিম আব্দুর রহমান কল করে বলে, সে ডিউটি শেষে বাসায় ফেরার পথে মঙ্গলবার সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার সময় বিমানবন্দর থানার বিমানবন্দর গোলচত্বরের সামনে বিমানবন্দর প্রবেশ মুখী রাস্তার উপর বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে গাড়ীর জন্য অপেক্ষাকালে অজ্ঞাতনামা আসামীরা ভিকটিমকে জোরপূর্বক টেনে হিঁচড়ে অপহরণ করে দক্ষিণখান থানার আশকোনা উঁচারটেক নামক স্থানের একটি ঘরে নিয়ে অবৈধভাবে আটক করে রেখেছে। মুক্তিপণ হিসেবে অপহরণকারীরা তাকে ছাড়াতে হলে (আসামীদের)কে পঞ্চাশ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। পরবর্তীতে অজ্ঞাতনামা আসামীরা তাহাদের ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার হতে পরিবারের সদস্যদের কল করে বলে তাদের দাবীকৃত টাকা দ্রুত না পাঠালে ভিকটিমকে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। কিছুক্ষণ পর আসামীরা পুনরায় তাদের উপরোক্ত মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। তখন মামলা বাদি মোছাঃ লাকি এত টাকা দিতে পারবেন না জানালে বিবাদীরা ভিকটিমকে মারধর শুরু করে এবং ভিকটিমের কান্নার আওয়াজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শুনতে পান। একপর্যায়ে ভিকটিমের নির্যাতনের কথা সহ্য করতে না পেরে অজ্ঞাতনামা আসামীদের দাবীকৃত টাকা হতে গতকাল বুধবার
অপহরণ চক্রের বিকাশ নাম্বার যোগে সর্বমোট ৭০ হাজার টাকা প্রেরণ করেন। পরবর্তীতে আসামীরা অবশিষ্ট মুক্তিপণের টাকার জন্য ভিকটিম আব্দুর রহমান এর উপর নির্যাতন করতে থাকে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ভিকটিমের ভাবি মোছাঃ লাকী বাদী হয়ে ডিএমপির বিমানবন্দর থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের (রুজু) করেন।
এলিট ফোর্স র্যাব-১, উত্তরার (মিডিয়া অফিসার) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রাাকিব হাসান এ প্রতিবেদককে জানান, এ অপহরণ ঘটনার প্রেক্ষিতে র্যাব-১ অপহৃত ভিকটিকমে উদ্ধার এবং আসামীদের গ্রেফতারের জন্য গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি ২০২৬) র্যাব-১, উত্তরার আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, অপহৃত ভিকটিম আব্দুর রহমান (৪৫) রাজধানীর দক্ষিণখান থানার দক্ষিণ পূর্ব গাওয়াইর, কলিল বক্স রোড, বাড়ি নং-৭৭৭ এ আসামীদের বসত ঘরে অবস্থান করছে। পরবর্তীতে একই রাত সোয়া ৮টার দিকে উক্ত বাসায় অভিযান চালিয়ে ভিকটিম আব্দুর রহমান (৪৫)’কে উদ্ধার এবং মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের চার সদস্য মোঃ ইকবাল মাহবুব শুভ (২৮), পিতা- হুমায়ুন কবির, (২) মোছাঃ শিউলি আক্তার (৪০), স্বামী- হুমায়ুন কবির, উভয় গ্রাম- বাড়ি নং-৭৭৭, কলিল বক্স রোড, দক্ষিণ পূর্ব গাওয়াইর, থানা- দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা, আবুল হাসেম (৪৯), পিতা- মৃত ওসমান আলী, গ্রাম- ছোট তুলাগাঁও, ৮নং ওয়ার্ড, থানা- বরুরা, জেলা- কুমিল্লা বর্তমান গ্রাম- উইচ্ছেদটেক, থানা- দক্ষিণখান, ডিএমপি, ঢাকা এবং মোঃ হাবিব সরকার (৫৫), পিতা- মৃত গোলাম হোসেন, গ্রাম-পুকুরপাড়, ৮নং ওয়ার্ড, থানা- শাহজাদপুর, জেলা- সিরাজগঞ্জ বর্তমান গ্রাম- আশকোনা, থানা- দক্ষিণখানকে আটক করতে সক্ষম হয়।
র্যাব সূত্র জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ঘটনার সাথে জড়িত বলে র্যাবের কাছে স্বীকার করেছে। পরে গ্রেফতারকৃত আসামীদেরকে ডিএমপির বিমানবন্দর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে ।