নিজস্ব প্রতিনিধি,
ঢাকা: মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বিশ্বজুড়ে জ্বালানি খাতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। এই প্রেক্ষাপটে দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অভ্যন্তরীণ উৎস ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এ লক্ষ্যে ৩ এপ্রিল রাজধানীর কাকরাইলের উষা চত্বরে ‘জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধি, পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজসম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং জ্বালানি মজুদ বৃদ্ধি’ শীর্ষক এক নাগরিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার আয়োজন করে সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদ।
সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক মো. মোস্তফা আল ইহযাযের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও অধ্যাপক ড. এস কে আকরাম আলী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক এস জি কিবরিয়া দিপু। এছাড়া প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান এস এম জহিরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক কালের ছবির সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম শিশির।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রাজ্জাক রুবেল, সেলিম রেজা বাচ্চু, অ্যাডভোকেট মু. ইমরান, মুহা. রবিউল ইসলাম, মো. সামছুল আলম সুমন, জে এম শফিউল আলম, রোজিনা আক্তার, ডা. মো. তারিকুল ইসলাম, মো. ইউসুফ জামিল ও মো. আব্দুস সালাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মু. সাহিদুল ইসলাম।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক যেকোনো সংকটের প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়তে পারে, তাই আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে দেশে জ্বালানি মজুদের সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে কম, যা বড় ধরনের সংকটে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাদের মতে, বাংলাদেশে সর্বোচ্চ এক মাসের জ্বালানি চাহিদা মেটানোর মতো মজুদ রয়েছে, যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলো আরও বেশি সময়ের জন্য মজুদ রাখতে সক্ষম।
তারা আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি উৎস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রামের খনিজসম্পদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন তারা।
বক্তাদের মতে, কার্যকর পরিকল্পনা ও সরকারের সদিচ্ছা থাকলে দেশীয় সম্পদ ব্যবহার করেই জ্বালানি সংকট অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব। এজন্য অন্তত এক বছরের জ্বালানি মজুদ নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।