সংবাদ শিরোনাম
‎যশোরে বিজিবির অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল আটক সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলার অভিযোগ, নিন্দা জানিয়েছে সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূলে বড় পদক্ষেপ: যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কতকিছুর হাট আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন মহলের শোক আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি। হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা” নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করলেই ডিজিটাল মামলা : ডিএমপি কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের বড় অভিযান পৌনে ৭ কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসি কষ্ট করবে এটা হতে পারে না-ডিএনসিসি প্রশাসক

নিকুঞ্জে মাদক ব্যবসা জমজমাট : ধ্বংসের পথে কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম

admin / ১৫ Time View
Update : শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
Oplus_16908288

15

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রাজধানী খিলক্ষেত শুক্রবার তারিখ -২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫ ইং দিনের আলোতে নিরাপদ ও শান্ত এক আবাসিক এলাকার নাম নিকুঞ্জ। এটি রাজধানীর খিলক্ষেত থানা নিয়ে নিকুঞ্জ এলাকাটি গঠিত। বর্তমানে খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ এলাকায় অবৈধ মাদকদ্রব্য বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। চেনা দৃশ্যপটের অন্তরালে রাতের বেলায় ভয়ঙ্কর এক সাম্রাজ্য সব কিছু বদলে যায়। রাত যতটা গভীর হয় অপরাধের মাত্রা ততটাই বাড়তে থাকে। যেন এক এলাহি কাজ কারবার। শান্ত ও নিরব এলাকাকে ঘিরে এই এলাকাটিতে নানাবিধ অপরাধীদের বিশাল একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। স্থানীয়দের মতে, নিকুঞ্জ এলাকায় মাদক সেবন ও বিক্রি দেখাচ্ছে চলছে। সে কারণে কিশোর, যুবক ও তরুণ প্রজন্ম ধ্বংসের পথে এগিয়ে চলছে

এছাড়া পাল্লা দিয়ে বাড়ছে চুরি, ছিনতাই, খুন, ডাকাতি, নারী- শিশু নির্যাতন, মাদকদ্রব্য বেচাকেনাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দিনকে দিন বাড়েই চলছে। পুরো নিকুঞ্জ এলাকাটি মাদকদ্রব্য বেচাকেনা এখন ‘ওপেন সিক্রেটে’ পরিণত হয়েছে । খবর সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্থ তথ্য সূত্রের।

আজ শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫) সরজমিন ঘুরে তথ্য অনুসন্ধান, বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ খবর ও এলাকাবাসীদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

জানা গেছে, রাজধানীর খিলক্ষেত থানা এলাকার নিকুঞ্জের টানপাড়া, জামতলা, পশ্চিমপাড়া, সরকারবাড়ি ও পুরাতন বাজার এলাকাজুড়ে মাদকসেবী ও কারবারি দের অবাধ বিচরণ ইদানিংকালে আগের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। এখন অনেকটাই পাল্টে গেছে নিত্যদিনের চিত্র। পুরানো চিত্র পাল্টে নানাবিধ নতুন নতুন কৌশল দেখা গেছে । ফলে স্থানীয় মাদকসেবীরা নেশার অর্থ জোগাড় করতে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে এমন অভিযোগ আর কেবল ধারণার পর্যায়ে নেই; বরং এটি এলাকাবাসীর প্রতিদিনের বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে অভিযোগ করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি থেকে শুরু করে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা—সবকিছুর পেছনেই ঘুরে ফিরে আসছে মাদকের নাম। রাত নামলেই নিকুঞ্জের অলিগলি, খালি জায়গা, ফুটপাত, ভাসমান দোকান, পরিত্যক্ত ভবন ও নির্জন কোণে সক্রিয় হয়ে ওঠে মাদকের ব্যবসা। প্রকাশ্যেই চলে সেবন ও কেনাবেচা—যা এলাকাবাসীর কাছে এখন আর গোপন নয়, বরং এক ধরনের ‘ওপেন সিক্রেটে’ পরিণত হয়েছে ।

সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, নিকুঞ্জ এলাকায় অন্তত অর্ধশতাধিক স্পটে প্রকাশ্যে ও গোপনে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রয়েছে নিকুঞ্জের টানপাড়া পশ্চিমপাড়া রোডের নজরুলের মেছ, পশ্চিমপাড়ার শেষ মাথা, জামতলা মসজিদের মেছ সংলগ্ন খালি জায়গা, জামতলা আলীজানের টেক, আইজ্জার বস্তি, এটিএনের খালি জায়গা ও তার চারপাশ, জামতলা পিলার খায়েরের বাড়ির পূর্ব পাশ সংলগ্ন খালি জায়গা, পেট্রোবাংলা সংলগ্ন বিএনপি অফিসের আশপাশ, ১৮ নম্বর রোডের পশ্চিম পাশ, জানে আলম স্কুলের পশ্চিম পাশ সংলগ্ন রাস্তা, বিআরটিসির সামনে ভাসমান দোকানগুলো এবং নিকুঞ্জ-২-এর ১৩ থেকে ১৭ নম্বর রোডের পূর্ব পাশ। এসব এলাকায় দিনের নির্দিষ্ট সময়ের পর এবং রাতের বেলায় মাদকসেবীদের আনাগোনা প্রকাশ্য রূপ নেয়।

তথ্য অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, কিছু মাদক কারবারি রাজনৈতিক সাইনবোর্ড ব্যবহার করে নিজেদের আড়াল করছে। যুবদলের নাম ব্যবহার করে নূর হোসেন লাল তার ভাই বাবুলকে দিয়ে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করাচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। একইভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলের নাম ভাঙিয়ে একাধিক মামলার আসামি মোফাবাবু তার ভাই জিসানকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করছে বলে স্থানীয়রা জানায়। অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত তোফাজ্জল হোসেন বাবুর্চির ছেলে দেলোয়ারের নামও মাদক বিক্রেতাদের তালিকায় উঠে এসেছে। এছাড়া টানপাড়ার মুসলিম কাঁচা বাজার সংলগ্ন নবী হোসেন ও সবুজ, মধ্যপাড়ার কাঠমিস্ত্রি রিপন, আইজ্জার বস্তির খোরশেদ ও আসিফ এবং জামতলায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায় জড়িত মানিকের নামও এলাকা বাসীর কাছে পরিচিত। স্থানীয়দের ভাষ্য, এদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ ও উদ্যোগ নেওয়া হলেও কার্যকর ফল আসেনি। থানা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া কিছু উদ্যোগকে অনেকেই লোকদেখানো বা আইওয়াশ হিসেবে দেখছেন।

এলাকাবাসীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে নিকুঞ্জে মাদকের বিস্তার কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। দ্রুত অর্থ উপার্জনের লোভে অনেক ভালো ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান পর্যন্ত এই অবৈধ কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার অভাবে মাদক ব্যবসায়ীরা আরও সংগঠিত ও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সচেতন মহল ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মাদকই আজ নিকুঞ্জ এলাকার অধিকাংশ অপরাধের মূলকারণ। একসময় যে নিকুঞ্জ ছিল শান্তিপূর্ণ বসবাসের প্রতীক, আজ সেখানে মাদকের সহজলভ্যতা তৈরি করেছে গভীর আতঙ্ক ও সামাজিক অস্থিরতা। লাগামহীন এই মাদক আগ্রাসনে ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে এলাকার কিশোর ও তরুণ প্রজন্মকে। নেশার জালে আটকে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় জীবন, ভেঙে পড়ছে পরিবার, আর সমাজে বাড়ছে অপরাধের ভয়াবহতা। শিশুদের স্কুলে যাওয়া, অফিসগামী মানুষের ব্যস্ততা, সন্ধ্যায় পরিবারের হাঁটাহাঁটি—সবকিছুই বাহ্যত স্বাভাবিক। কিন্তু এই চেনা দৃশ্যপটের আড়ালেই গড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর অদৃশ্য সাম্রাজ্য।

সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসীর জোর দাবি—নিকুঞ্জে মাদক ব্যবসায়ীদের উৎপাত বন্ধ করতে এখনই বিশেষ ও ধারাবাহিক অভিযান চালাতে হবে। শুধু অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত টহল, গোপন নজরদারি, চিহ্নিত হটস্পটে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং যুব সমাজকে সম্পৃক্ত করে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। ইতিহাস থেকে জানা গেছে, একটি জাতির সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ সমাজ। রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রা, সামাজিক পরিবর্তন কিংবা মুক্তির প্রতিটি অধ্যায়ে তরুণদের ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। অথচ আজ সেই তরুণ সমাজই মাদকের আগ্রাসনে দিশেহারা। নিকুঞ্জের মতো একটি আবাসিক এলাকায় যখন তরুণরা মাদক ব্যবসার হাতিয়ার কিংবা নিয়মিত সেবনে জড়িয়ে পড়ছে, তখন তা শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়—এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ অশনিসংকেত।

এ বিষয়ে ডিএমপির খিলক্ষেত থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলিম সাংবাদিকদের বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে খিলক্ষেত থানা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। মাদক সেবন, বিক্রি ও যারা এ পেশার সাথে জড়িত তাদের কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি আরও বলেন, মাদকের আগ্রাসন থেকে যুব সমাজকে রক্ষা করা পুলিশের অঙ্গীকার। মাদক সংক্রান্ত যে কোনো তথ্য সরাসরি জানালে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুষ্ঠু বিকাশের স্বার্থে শুধু নিকুঞ্জ নয়, পুরো জাতিকেই মাদকের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। নৈতিক শিক্ষা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে যুবসমাজকে মানবকল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে। তাহলে সমাজ থেকে মাদকদ্রব্য নির্মূল করা সম্ভব হবে। মাদকের কালো থাবা থেকে রক্ষা পাক দেশের যুব ও নতুন প্রজন্ম। এমনটাই নিকুঞ্জ এলাকার সর্বস্তরের জনগণের প্রত্যাশা।

এব্যাপারে বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ প্রধান, ডিএমপি কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট মহলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ মাদকদ্রব্য ও আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের জন্য চিরুনী অভিযানের দাবি জানিয়েছেন নিকুঞ্জবাসি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category