রিপোর্ট (পর্ব–০২) তারিখ: ২৬ মার্চ ২০২৬
ঢাকা–১৮ আসনের মানুষ রাজধানীর ঢাকা-১৮ আসন এলাকায় মশার ভয়াবহ উপদ্রবের মধ্যেই সামনে এসেছে মশা নিধন কার্যক্রমের বাজেট ও বাস্তবায়ন ঘিরে নানা প্রশ্ন। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রতি বছর মশা নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর কার্যকারিতা নিয়ে রয়েছে জনঅসন্তোষ।
বাজেট: কাগজে বড় অঙ্ক,
বাস্তবে প্রভাব কতটা? ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর সাম্প্রতিক বছরগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়— মশা নিধনে প্রতি বছর কয়েক কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ থাকে এর মধ্যে ফগিং, লার্ভিসাইডিং, জনবল ও সরঞ্জাম ক্রয়ে ব্যয় ধরা হয়
তবে মাঠপর্যায়ে বসবাসকারী নাগরিকদের দাবি, এই ব্যয়ের প্রতিফলন দৃশ্যমান নয়। একজন বাসিন্দার ভাষা “বাজেটের কথা শুনি, কিন্তু এলাকায় নিয়মিত ওষুধ ছিটাতে দেখি না।”
টেন্ডার ও সরবরাহ প্রক্রিয়া বিশ্লেষণে উঠে এসেছে—
মশা নিধনের ওষুধ ও যন্ত্রপাতি ক্রয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় নির্দিষ্ট সরবরাহকারীদের মাধ্যমে কীটনাশক সংগ্রহ করা হয় কিন্তু ওষুধের মান ও কার্যকারিতা যাচাই নিয়ে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে বিশেষজ্ঞদের মতে, “ওষুধ কার্যকর না হলে শুধু ফগিং করে কোনো লাভ হয় না।”মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে—ফগিং কার্যক্রম অনিয়মিত অনেক স্থানে সপ্তাহের পর সপ্তাহ কোনো কার্যক্রম নেই
ড্রেন ও জলাশয়ে লার্ভা ধ্বংস কার্যক্রম সীমিত
ফলে, মশার প্রজনন অব্যাহত থাকছে এবং সমস্যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কার্যকারিতা সংকট: কেন কাজ করছে না?
বিশেষজ্ঞদের মতে সমস্যার মূল কারণগুলো হলো—
শুধু ফগিং নির্ভরতা (যা পূর্ণাঙ্গ সমাধান নয়)
প্রজননস্থল (ড্রেন, খাল, জলাবদ্ধতা) অক্ষত থাকা
ওষুধের মান ও প্রয়োগ পদ্ধতিতে ত্রুটি
মনিটরিং ও জবাবদিহির অভাব
এডিস মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে জন্মালেও বর্তমানে শহরের নোংরা পরিবেশেও দ্রুত অভিযোজিত হচ্ছে—যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করছে।
জবাবদিহির প্রশ্ন
এই প্রেক্ষাপটে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এসেছে—
বরাদ্দকৃত বাজেটের কত শতাংশ বাস্তবে কার্যকরভাবে ব্যবহার হচ্ছে?
ওয়ার্ডভিত্তিক কার্যক্রমের তদারকি কীভাবে করা হয়?
ব্যবহৃত কীটনাশকের মান যাচাই কে করছে?
নাগরিক অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি?
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন—মশা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত কার্যক্রম চলমান রয়েছে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন
তারা দাবি করেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
নাগরিকদের দাবি
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন—
নিয়মিত ও দৃশ্যমান কার্যক্রম নিশ্চিত করতে হবে
ড্রেন ও জলাশয় পরিষ্কার রাখতে হবে
ওষুধের মান যাচাই করতে হবে
ওয়ার্ডভিত্তিক জবাবদিহি বাড়াতে হবে
উপসংহার
ঢাকা–১৮ আসনের বর্তমান বাস্তবতা স্পষ্ট করে যে, শুধু বাজেট বরাদ্দই যথেষ্ট নয়—কার্যকর বাস্তবায়ন ও কঠোর মনিটরিংই মূল চাবিকাঠি।
মশা নিয়ন্ত্রণে পরিকল্পনা ও বাস্তবতার ফাঁক দূর না হলে আগামীতেও জনদুর্ভোগ অব্যাহত থাকবে।
(সমাপ্তি নয় — পরবর্তী অনুসন্ধানে: দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা, মাঠকর্মী ও সরবরাহকারীদের জবাব)