সংবাদ শিরোনাম
‎যশোরে বিজিবির অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল আটক সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলার অভিযোগ, নিন্দা জানিয়েছে সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূলে বড় পদক্ষেপ: যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কতকিছুর হাট আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন মহলের শোক আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি। হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা” নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করলেই ডিজিটাল মামলা : ডিএমপি কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের বড় অভিযান পৌনে ৭ কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসি কষ্ট করবে এটা হতে পারে না-ডিএনসিসি প্রশাসক

জনকলম (অনুসন্ধানী বিশেষ)

মাদক–চাঁদাবাজি–দুর্নীতির গোপন জাল: কার ছত্রছায়ায় চলছে সিন্ডিকেট সাম্রাজ্য?

admin / ২০ Time View
Update : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

42

নিউজ দৈনিক ঢাকার কন্ঠ 

বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রার গল্প যতটা দৃশ্যমান, ততটাই অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে এক ভয়াবহ বাস্তবতা—মাদক, চাঁদাবাজি ও প্রশাসনিক দুর্নীতির অদৃশ্য জাল। রাজধানী থেকে সীমান্ত, বাজার থেকে মহল্লা—একটি সংগঠিত সিন্ডিকেট নীরবে বিস্তার লাভ করছে। প্রশ্ন একটাই—এই শক্তির উৎস কোথায়? মাদক: সীমান্ত পেরিয়ে শহরের অলিতে-গলিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাম্প্রতিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—যত ধরা পড়ছে, তার চেয়ে বেশি অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে মাদক ঢোকে—কিন্তু শহরে তা ছড়িয়ে দেয় কারা?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু মাঠপর্যায়ের কারবারি নয়, এর পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক। তরুণ প্রজন্ম আজ সবচেয়ে বড় টার্গেট। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসংলগ্ন এলাকায় গোপন সরবরাহ লাইন তৈরি হয়েছে—যা উদ্বেগজনক চাঁদাবাজি: ধর্মীয় ও সামাজিক আড়ালে অর্থের খেলা

ইফতার মাহফিল, ক্লাব, উন্নয়ন প্রকল্প কিংবা ব্যবসায়িক অনুমোদন—বিভিন্ন অজুহাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠছে। অনেক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নিয়মিত চাপ ও অঘোষিত ‘দাবি’ না মানলে হয়রানি শুরু হয়।

এই অর্থ কোথায় যায়? কার কাছে পৌঁছে? এর পেছনে রাজনৈতিক ছায়া আছে কি না—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন বাড়ছে। প্রশাসনিক দুর্নীতি: মূল শিকড় কত গভীরে?

ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ে না—এ অভিযোগ নতুন নয়। সেবা পেতে ঘুরতে হয় এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে।

দুর্নীতি দমন সংস্থার অভিযানের পরও কেন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসছে না?

বিশ্লেষকদের মতে, শাস্তির নজির কম এবং প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রে আইনের প্রয়োগে দ্বৈত মানদণ্ড থাকায় দুর্নীতির সংস্কৃতি টিকে আছে।

তিন স্তরের সিন্ডিকেট কাঠামো (অনুসন্ধানে উঠে আসা চিত্র) মাঠপর্যায়ের সংগ্রাহক ও সরবরাহকারী – যারা সরাসরি লেনদেন করে। মধ্যস্থ সমন্বয়কারী – প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক যোগাযোগ রক্ষা করে। অদৃশ্য পৃষ্ঠপোষক – যারা আর্থিক ও প্রভাবের জোরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

এই কাঠামো ভাঙা না গেলে অভিযানে সাময়িক সাফল্য মিললেও স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

🛑 এখন কী প্রয়োজন?

✔ উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি

✔ মাদক ও চাঁদাবাজি সংশ্লিষ্ট সম্পদের উৎস অনুসন্ধান

✔ প্রশাসনে ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও সেবায় অটোমেশন

✔ বড় মাথাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও দ্রুত বিচার

বাংলাদেশের মানুষ এখন আর আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়। তারা ফলাফল দেখতে চায়।মাদক, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে যদি প্রকৃত “জিরো টলারেন্স” কার্যকর না হয়, তবে উন্নয়নের সব অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

রাষ্ট্র কি এই অদৃশ্য শক্তির বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেবে? নাকি সিন্ডিকেটের নিরাপদ ছায়াতেই চলবে সবকিছু? জনগণ উত্তর অপেক্ষায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category