সংবাদ শিরোনাম
‎যশোরে বিজিবির অভিযানে আড়াই লক্ষ টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল আটক সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের নতুন কমিটি গঠন মিরপুর শাহ আলী মাজারে হামলার অভিযোগ, নিন্দা জানিয়েছে সুফিবাদ ঐক্য পরিষদ মধ্যস্বত্বভোগী নির্মূলে বড় পদক্ষেপ: যশোরের কৃষকদের সাথে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে কতকিছুর হাট আওয়ামী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রয়ানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিভিন্ন মহলের শোক আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি। হেযবুত তওহীদের গোলটেবিল বৈঠক “মানবাধিকার ও বাক-স্বাধীনতা” নিশ্চিতে ৯ দফা প্রস্তাবনা উল্টোপথে যানবাহন চলাচল করলেই ডিজিটাল মামলা : ডিএমপি কমিশনার চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‍্যাবের বড় অভিযান পৌনে ৭ কেজি হেরোইনসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গুটিকয়েক মানুষের জন্য পুরো মিরপুরবাসি কষ্ট করবে এটা হতে পারে না-ডিএনসিসি প্রশাসক

সালাউদ্দীন আইয়ুবী ও ৩০০০ আলেম হত্যার গল্প: সত্য, না সাজানো কাহিনি?

admin / ৪৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

65

 দৈনিক ঢাকার কণ্ঠ/ 

কলাম | ইতিহাসের আয়নায়

ইতিহাস শুধু অতীতের ঘটনা নয়; এটি আমাদের চিন্তা, বিশ্বাস ও মূল্যবোধকে গড়ে তোলে। কিন্তু সেই ইতিহাস যদি ভুল বা অপ্রমাণিত তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তা সমাজকে বিভ্রান্ত করতেই পারে। সাম্প্রতিক সময়ে এমনই একটি আলোচিত গল্প ঘুরে বেড়াচ্ছে—মুসলিম বিশ্বের মহান নেতা সালাউদ্দীন আইয়ুবী নাকি বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়ের পর ৩০০০ “আলেম”কে হত্যা করেছিলেন।

গল্পটি সাধারণত এভাবে বলা হয়: বাইতুল মুকাদ্দাস বিজয়-এর পর সবাই যখন বিজয়োৎসবে মেতে উঠেছিল, তখন সালাউদ্দীন আইয়ুবী ভবিষ্যৎ ষড়যন্ত্রের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে একটি গোপন গোয়েন্দা বাহিনী গঠন করেন। সেই বাহিনী নাকি ছদ্মবেশী আলেমদের খুঁজে বের করে, যারা ভেতরে ভেতরে মুসলিম সমাজে ফিৎনা ছড়াচ্ছিল। অবশেষে প্রায় ৩০০০ জনকে হত্যা করা হয়—এমনটাই প্রচলিত বর্ণনা।

শুনতে নাটকীয়, এমনকি শিক্ষণীয়ও মনে হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে—এই ঘটনার ঐতিহাসিক ভিত্তি কতটুকু?

ইতিহাসের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো ভিন্ন কথা বলে। মুসলিম ইতিহাসবিদ ইবনুল আসির, ইমাম ইবনে কাসির কিংবা ইমাম যাহাবী—যারা সালাউদ্দীন আইয়ুবীর জীবন ও কর্ম নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন—তাদের কোনো গ্রন্থেই এমন ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায় না।

বরং ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। জেরুজালেম বিজয়ের পর সালাউদ্দীন আইয়ুবী প্রতিশোধের পথ না বেছে ক্ষমা ও মানবিকতার উদাহরণ স্থাপন করেন। তিনি খ্রিস্টান অধিবাসীদের নিরাপদে শহর ত্যাগের সুযোগ দেন, অনেক বন্দিকে মুক্তি দেন এবং ধর্মীয় সহনশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। এ কারণেই তিনি শুধু মুসলিমদের কাছেই নয়, বরং পশ্চিমা ইতিহাসবিদদের কাছেও একজন মহান নেতা হিসেবে স্বীকৃত।

তাহলে “৩০০০ আলেম হত্যা”র গল্পটি কোথা থেকে এলো?

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এটি মূলত মৌখিক বর্ণনা, আবেগনির্ভর ওয়াজ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরঞ্জিত উপস্থাপনা থেকে ছড়িয়ে পড়েছে। সময়ের সাথে সাথে গল্পটি আরও নাটকীয় রূপ পেয়েছে—যেখানে গুপ্তচর, ছদ্মবেশ, এমনকি হারাম শরীফের ইমাম পর্যন্ত যুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের কঠোর যাচাইয়ে এসব দাবির কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না।

ইতিহাসের প্রতি আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে—শোনা কথা নয়, বরং যাচাই করা তথ্যের ওপর নির্ভর করা। কারণ একটি ভুল গল্প শুধু অতীতকেই বিকৃত করে না, বর্তমানের চিন্তাভাবনাকেও প্রভাবিত করে।

শেষকথা

সালাউদ্দীন আইয়ুবী ছিলেন ন্যায়পরায়ণতা, প্রজ্ঞা ও সহনশীলতার প্রতীক। তার জীবনের সাথে যুক্ত যে কোনো ঘটনা প্রচারের আগে আমাদের উচিত তা নির্ভরযোগ্য ইতিহাসের আলোকে যাচাই করা। “৩০০০ আলেম হত্যা”র গল্পটি তাই ইতিহাস নয়, বরং একটি অপ্রমাণিত কাহিনি—যা সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category