তারিখ: ১৭ মার্চ ২০২৬, ঢাকা
রাজধানীর উত্তরখান এলাকায় নবনির্মিত একটি আধুনিক ঈদগাহ্ ও খেলার মাঠ উদ্বোধন করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) অঞ্চল-০৮ এর ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরখান মধ্যপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই উদ্বোধন সম্পন্ন হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই ঈদগাহটি শুধু ঈদের নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই নয়, বরং এলাকাবাসীর জন্য একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। তিনি জানান, শিশু, নারী ও প্রবীণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করেই মাঠটি নির্মাণ করা হয়েছে।
নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ওষুধ প্রয়োগ করে মশা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বরং এ জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত সচেতনতা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য দেন ডিএনসিসির প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসান।
ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, পূর্বে কর্পোরেশনের পুরাতন তিনটি অঞ্চলে মাত্র তিনটি ঈদগাহ মাঠ থাকলেও নতুন সংযুক্ত পাঁচটি অঞ্চলে কোনো ঈদগাহ ছিল না। এ প্রেক্ষাপটে পরিবেশ, জলবায়ু ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সার্কেলের উদ্যোগে ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ ৪২ হাজার টাকা ব্যয়ে ডিএনসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে নির্মিত এই মাঠে একসঙ্গে প্রায় ১,২৫০ জন মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়া জানাজার নামাজেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মাঠটিতে রয়েছে ১৫০ মিটার ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ৫ ফুট চওড়া হাঁটার পথ, ১.৭ মিটার উচ্চতার নিরাপত্তা বেষ্টনী, আধুনিক পাবলিক টয়লেট, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা ও অযুখানা। পুরুষ, নারী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য আলাদা সুবিধাও নিশ্চিত করা হয়েছে।
শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য ফুটবলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। এছাড়া পানি সরবরাহের জন্য পাম্প, যাতায়াতের সুবিধার্থে দুটি প্রধান গেট ও একটি পকেট গেট নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে সবুজ ঘাস ও গাছপালা রোপণ করা হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের জন্য বসার ব্যবস্থা ও ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে।
নবনির্মিত এই ঈদগাহ্ ও খেলার মাঠ ঈদের সময় ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি বছরজুড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সামাজিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে ব্যবহৃত হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এটি একটি সুস্থ, সবুজ ও বাসযোগ্য নগর গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।