রফিকুল হক শিকদার জাহাঙ্গীর
রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকা থেকে জালনোট প্রস্তুতকারী চক্রের অন্যতম মূলহোতাসহ তিনজনকে আটক করেছে র্যাপিট অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৩) । তারিখ: ২০/০৬/২০২৩ইং এ সময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জালনোট তৈরির মেশিন, বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ও প্রস্তুতকৃত জাল টাকা উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, এ চরের অন্যতম মূলহোতা মো. শাহজাদা আলম (৩০), মো. মাহেদী হাসান (১৯), আবু হুরায়রা আসছে তুমার (২২)-কে প্রোপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২ টায় র্যাব-৩, টিকাটুলি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফ মহিউদ্দিন আহমেদ এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, গত সোমবার রাতে র্যাব-৩ এর একটি দল রাজধানীর উত্তরখান থানার উজ্জাপাড়া (মাস্টারপাড়া) এলাকায় গোপনে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে জালনোট প্রস্তুতকারী সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতাসহ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯০০টি ২০০ টাকার জালনোট এবং ২০০টি ১০০ টাকার জালনোট মিলিয়ে সর্বমোট দুই লাখ জালটাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৩ এর এ কর্মকর্তা জানান, এছাড়া তাদের কাছ থেকে জালনোট প্রস্তুতের কাজে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ১টি ল্যাপটপ ব্যাগ, ১টি কী-বোর্ড, ২টি মাউস, ২টি ল্যাপটপ চার্জার, ১টি পেনড্রাইভ, ১০টি বিশেষ মার্কার পেন, টাকা ছাপানোর কাজে ব্যবহৃত ১টি লেজারসহ ১০০ প্রিন্টার ও ১টি লেজারসহ ২০০ খ্রিস্টার, টাকার ডিজাইন প্রিন্ট করার জন্য ৪টি টোনার কার্টিজ, ২রিম সাদা কাগজ, ১টি ফয়েল পেপার রোল, ৩টি স্টিলের স্কেল, ৩টি এন্টি কাটার, ১টি কাঁচি, ৪টি মোবাইল, ৮টি সিমকার্ড, ১টি এনআইডি কার্ড, ৩টি মানিব্যাগ এবং নগদ ৩০৬০ টাকা উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানিয়েছে, এ চক্রটি (তারা) স্ক্রিলের স্কেল এবং এন্টিকাটারে সাহায্যে জালনোটগুলো কেটে বান্ডেল করে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করে। তারা সূক্ষভাবে সম্পন্ন করতে বিভিন্ন কোম্পানির নানা ধরনের কাগজ ব্যবহার করে সবশেষ লিপি গোল্ডকে বেছে নেয়। এভাবে ৫০টি নোটের একটি বান্ডেল তৈরিতে তাদের আনুমানিক ২০০ টাকা খরচ হয় অর্থাৎ ১ লাখ টাকা তৈরিতে আনুমানিক খরচ হয় ২ হাজার টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোস্তারকৃত শাহজাদা, মাহেনী এবং তুষার মিলে বিগত ৬ মাস যাবৎ জালটাকার ব্যবসা করার লক্ষে কার্যক্রম শুরু করে। আটক মাহেনী আগে থেকেই ফটোশপ এবং গ্রাফিক্সের ছোটখাট কাজ জানত। সেই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে ইউটিউব থেকে জাল টাকা বানানোর প্রক্রিয়া দেখে এবং ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিত হওয়া দুই বন্ধু শাহজাদা ও তুমারের সহযোগিতায় জালটাকা তৈরির কাজ শুরু করে। আটককৃতরা র্যাবকে জানান, শাহজাদা এবং তুষার দীর্ঘদিন ধরেই জালটাকা কেনাবেচার কাজ করে আসছিল। পরবর্তীতে মাহেনীকে সঙ্গে নিয়ে তারা এবার জালটাকা বানানোর কাজ শুরু করে আসছিল বলে স্বীকার করেছেন। র্যাব-৩ এর অধিনায়ক জানান, এসব তৈরিকৃত জালনোট বিক্রির জন্য শাহজাদা এবং তুষার মিলে ফেসবুকে জালটাকা ক্রয়-বিক্রয়ের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপের (যেমন- এ গ্রেড জালনোট, টাকা চাই, জালনোট, জালটাকা বিক্রি করি, জাল টাকার ডিলার, জাল টাকা বিনা কেন্দ্র, রিয়েল সেলস, টাকা বিজনেস ইত্যাদি) পোস্টে জালটাকা ক্রয়ে আগ্রহী কমেন্টকারীদের সঙ্গে ইনবক্সে যোগাযোগ করে।