নিজস্ব প্রতিনিধি:
ডিগ্রি ২০২৩ ব্যাচের অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা ৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি এক সাংবাদিক সম্মেলনে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন।
শিক্ষার্থীদের দাবি, পূর্ব নির্ধারিত আশ্বাস অনুযায়ী খাতা দেখার উদ্দেশ্যে তারা ওইদিন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে খাতা দেখার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন।
সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীরা খাতা পর্যালোচনার অনুরোধ জানালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নানা ধরনের গড়িমসি শুরু হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ভিসির গাড়ির কাছে গিয়ে পূর্বের আশ্বাসের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেন।
তবে অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করে উল্টো শিক্ষকদের শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা লাঠি, পাইপ ও ইটপাটকেল নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায় বলে দাবি করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে বহু শিক্ষার্থী আহত হন।
এছাড়া অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ভিসির গাড়ির সামনে অবস্থানরত কয়েকজন ছাত্রীকে অশালীনভাবে স্পর্শ করা হয় এবং গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়—যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একতরফা পদক্ষেপ নেয় এবং অসদাচরণ করে বলেও অভিযোগ করা হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে “অটোপাস” ও “ভিসির ওপর হামলা” হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে। এমনকি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ই-মেইলের মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাঠানো হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। কিছু গণমাধ্যম সেই তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করায় হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
তাদের দাবি, ঘটনার পক্ষে পর্যাপ্ত ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে এবং তারা চান প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরা হোক।
শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, খাতা পুনর্মূল্যায়নের নামে একটি চক্র বিপুল অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। খাতা দেখাতে ব্যর্থ হয়ে “অটোপাস” ও “ভিসির ওপর হামলা” ইস্যু তৈরি করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন। পাশাপাশি, পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা ছিল নিরব ও প্রশ্নবিদ্ধ।
এ ঘটনায় শিক্ষকদের হাতে শিক্ষার্থী আহত হওয়া এবং ছাত্রীদের লাঞ্ছনার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন তারা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বানও জানান শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।