নিজস্ব প্রতিবেদক:
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সংসদ সদস্যদের শপথ কে পড়াবেন—এ বিষয়টি এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত জাতীয় সংসদের স্পিকার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকলে কী হবে—এ নিয়ে তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক ব্যাখ্যার প্রয়োজন।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রপতি প্রয়োজনে কাউকে মনোনীত করতে পারেন সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর জন্য। দ্বিতীয়ত, যদি নির্ধারিত উপায়ে শপথ গ্রহণ সম্ভব না হয়, তাহলে তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সংবিধান এমনভাবে প্রণীত যে কোনো অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র পরিচালনায় শূন্যতা সৃষ্টি না হয়। ফলে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই নতুন সংসদের যাত্রা শুরু করা সম্ভব।
শপথ গ্রহণ শেষে সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সম্পন্ন হবে। যে দল বা জোট জাতীয় সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে (কমপক্ষে ১৫১ আসন), রাষ্ট্রপতি তাদের সরকার গঠনের আহ্বান জানাবেন। পরবর্তীতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন এবং মন্ত্রিসভা গঠন করবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বাস্তবতা যাই হোক না কেন, সংবিধান সরকার গঠনের স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। এখন দৃষ্টি থাকবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল ও সংখ্যাগরিষ্ঠতার হিসাবের দিকে।