ঢাকা, রবিবার তারিখ ৭ জুন ২০২৬ ইং নাগরিক সেবা ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) ধানমন্ডিতে এক গণশুনানির আয়োজন করেছে। রবিবার ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ গণশুনানিতে অঞ্চল-১ এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকার নাগরিকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম।
গণশুনানিতে ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান ও শাহবাগ এলাকার বাসিন্দারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জলাবদ্ধতা, সড়ক উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স ও জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে জবাবদিহিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি জানান, ধানমন্ডি লেক কোনোভাবেই বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। এছাড়া এলাকায় জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কঠোর নজরদারিও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। তিনি নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
তিনি আরও জানান, ধানমন্ডি লেককে পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব হিসেবে উন্নয়ন করা হবে এবং সেখানে কোনো বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না। পাশাপাশি হকার ও রিকশাচালকদের নিবন্ধনের আওতায় এনে নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনার কথাও জানান।
গণশুনানিতে উত্থাপিত সমস্যা ও প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে প্রশাসক বলেন, জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নগর সেবার মানোন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলেই এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হবে।