— প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
তারিখ: ৭ এপ্রিল ২০২৬ (মঙ্গলবার) বাংলা ২৪ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পৃথিবীতে ‘মা’ শব্দের পর যে শব্দটিতে পরম মমতা, বিনম্র শ্রদ্ধা ও অকৃত্রিম ভালোবাসা মিশে থাকে, তা হলো ‘ভাই’। এই একটি সম্বোধন যেন মুহূর্তেই অপরিচিত কাউকেও আপন করে নেয়। কাউকে ‘ভাই’ বলে ডাকতে শুনলে মন ভরে ওঠে এক অনাবিল প্রশান্তিতে—মনে হয় তিনি যেন আমারই অতি আপন, পরম আত্মীয়।
আমরা যখন একই মমতা নিয়ে কাউকে ‘ভাই’ ডাকি, তখন সেখানে কোনো কৃত্রিমতা থাকে না। তবে চাইলেই যে কাউকে ‘ভাই’ বলা যায় না—এই ডাকের জন্য প্রয়োজন অন্তরের গভীর অনুভূতি। সেই স্পন্দন না থাকলে ডাকের মধ্যে প্রাণ থাকে না, আর শ্রোতার মনেও তা সাড়া জাগাতে পারে না।
দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের সমাজ ও রাজনীতিতে পদমর্যাদাকে কেন্দ্র করে এক ধরনের দূরত্ব তৈরির প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে দেখা গেছে। ‘ভাই’ সম্বোধন নিয়েও অনেক সময় রূঢ় আচরণের নজির রয়েছে, যা দায়িত্বশীল অবস্থানের সাথে বেমানান। এতে বোঝা যায়—অনেকে এখনো উপলব্ধি করতে পারেন না যে, পদের চেয়ে মানুষের হৃদয়ের টান অনেক বড়।
সম্প্রতি ৬ এপ্রিল এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হওয়া যায়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি পার্লামেন্ট অধিবেশন ও দাপ্তরিক কাজ শেষে বাসভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার সময় সাধারণ মানুষের সাথে সৌজন্য বিনিময় করেন। এ সময় এক ব্যক্তি আন্তরিকভাবে তাঁকে উদ্দেশ করে বলেন, “আসসালামু আলাইকুম ভাই।” উপস্থিত অনেকের মধ্যে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত স্বাভাবিক ও মৃদু হাসিতে জবাব দেন—“ওয়ালাইকুম আসসালাম।”
একজন সরকারপ্রধান যখন সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এমন সম্বোধন গ্রহণ করেন এবং তা আন্তরিকতার সাথে উপভোগ করেন, তখন এটি কেবল একটি শব্দের ব্যবহার নয়—বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত বহন করে। এটি এমন এক সম্পর্কের প্রতীক, যেখানে নেতৃত্ব ও জনগণের মাঝে দূরত্ব কমে আসে।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ এক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রব্যবস্থা ও প্রশাসনের সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের ধারা লক্ষণীয়। এই পরিবর্তনের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিত্বদের মধ্যে মানবিকতা ও বিনয়ই হয়ে উঠছে বড় শক্তি।
এই প্রেক্ষাপটে ‘ভাই’ সম্বোধনের মতো সহজ একটি শব্দই হয়ে উঠতে পারে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্ধনের ভিত্তি—যেখানে শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও পারস্পরিক আস্থা থাকবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
লেখক:
বিদেশে প্রথম বাংলাদেশি ভাইস-চ্যান্সেলর, দারুসসালাম বিশ্ববিদ্যালয়, মোগাদিসু, সোমালিয়া।